ধর্ম ডেস্ক
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
আজানের ধ্বনি ভেসে এলে অনেকে কথা বলা বন্ধ করে দেন। আবার কেউ মনে করেন, আজানের সময় কথা বললে গুনাহ হয় বা দীর্ঘদিনের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের নানা বক্তব্য দেখা যায়। কিন্তু কোরআন-হাদিস এ বিষয়ে কী বলে? ইসলামে আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে, তোমরাও তার অনুরূপ বলো।’ প্রশ্ন হলো- আজানের সময় কথা বললে কি গুনাহ হবে?
আজানের সময় কথা বললে গুনাহ হয় না। তবে, অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে আজান শোনা এবং এর জবাব দেওয়া সুন্নত। তবে কেউ যদি আজানের সময় কথা বলে বা অন্যকোনো কাজে ব্যস্ত থাকে, তাহলে এ কারণে সে গুনাহগার হবে—এমন কথা কোরআন-হাদিসের কোথাও নেই।
অর্থাৎ আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত, কিন্তু তা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই তা আদায় না করলে সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে, তবে গুনাহ হবে বলা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন: আজানের সময় মাথায় কাপড় দেওয়া কি জরুরি কিছু?
আজানের জবাব দেওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং নামাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। তাই আজান শুনে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া, অজু করা এবং সময়মতো জামাতে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা একজন মুসলমানের মূল দায়িত্ব।
আজানের সময় সাধারণ কথাবার্তা বা অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকা উত্তম। তবে কেউ যদি জরুরি দায়িত্বে থাকেন, যেমন চিকিৎসাসেবা, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, জরুরি ফোনকল বা এমন কোনো কাজ, যা তখনই শেষ করা প্রয়োজন, তাহলে সেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।
একইভাবে ওয়াজ, দ্বীনি আলোচনা বা কোরআন তেলাওয়াত চললেও সাময়িক বিরতি দিয়ে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে কাজ চালিয়ে যাওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
অনেকের মুখে শোনা যায়, আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। আবার কেউ বলেন, আজানের জবাব না দিলে ঈমান নিয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। এসব বক্তব্যের কোনো সহিহ প্রমাণ নেই। আলেমরা এগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাই এ ধরনের কথা প্রচার বা বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
আরও পড়ুন: অজু ছাড়া আজান দেওয়া যায়?
মুয়াজ্জিন যা বলেন, সাধারণভাবে তার অনুরূপই বলতে হয়।
তবে ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’-এর জবাবে বলতে হবে- ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’
ফজরের আজানে ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’ বলা হলে জবাবে বলা উত্তম- ‘সাদাকতা ওয়া বারারতা।’
হাদিসে আজানের জবাবদাতার জন্য জান্নাতের সুসংবাদও বর্ণিত হয়েছে।
মোটকথা, আজানের সময় কথা বলা গুনাহ—এমন ধারণার কোনো সহিহ দলিল নেই। তবে আজান ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাই আজান শুনে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বন্ধ রাখা, মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়া এবং নামাজের প্রস্তুতি নেওয়াই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম আমল।
ধর্মীয় বিষয়ে প্রচলিত কথার চেয়ে কোরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করাই একজন মুমিনের জন্য নিরাপদ পথ।
তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন, সহিহ বুখারি: ৬১১; সহিহ মুসলিম: ৩৮৫; ফাতহুল কাদির: ১/২৪৮; রদ্দুল মুহতার: ১/৩৯৯; আদ্দুররুল মুখতার: ১/৩৯৭; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৫/৪২৭, ৫/৪৩০