images

ইসলাম

আশুরার রোজা একদিন নাকি দুদিন, ২০২৬ সালে কবে পড়বে?

ধর্ম ডেস্ক

১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

ইসলামি ইতিহাসে ১০ মহররম তথা আশুরা এক অনন্য তাৎপর্যমণ্ডিত দিন। এই দিনে মহান আল্লাহ নবী মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এই কৃতজ্ঞতার স্মারক হিসেবে মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সুন্নাহর মাধ্যমে এই আমলটি মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ ফজিলতের রোজায় পরিণত হয়।
তবে আশুরার রোজা পালনের ক্ষেত্রে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন জাগে- এই রোজা কি কেবল একদিন রাখা হবে, নাকি দুদিন? হাদিসের আলোকে এর সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো।

আশুরার রোজার সূচনা ও নবীজির (স.) আমল

রাসুলুল্লাহ (স.) মদিনায় হিজরতের পর দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখছে। কারণ জানতে চাইলে তারা বলে, এই দিনে আল্লাহ মুসা (আ.) ও তাঁর সম্প্রদায়কে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন, তাই মুসা (আ.) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই দিনে রোজা রাখতেন। তখন নবীজি (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের চেয়ে মুসার (আ.) অধিক নিকটবর্তী।’ এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারি: ২০০৪)
উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবীজি (স.) চারটি আমল প্রায় কখনোই পরিত্যাগ করতেন না; তার মধ্যে অন্যতম আশুরার রোজা। (সুনানে নাসায়ি: ২৪১৬)

আরও পড়ুন: মহররম মাসে করণীয় ও বর্জনীয়

গুনাহ মাফের সুযোগ

আশুরার রোজার অন্যতম বড় ফজিলত হলো বিগত বছরের গুনাহ মোচন। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আশুরার রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, এটি বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)

একদিন নাকি দুদিন? সুন্নাহ কী বলে

আশুরার মূল রোজা ১০ মহররমের। তবে যেহেতু ইহুদিরাও একদিন (১০ মহররম) রোজা রাখত, তাই তাদের সাথে সাদৃশ্য এড়াতে নবীজি (স.) অতিরিক্ত আরও একদিন রোজা রাখার নির্দেশ দেন।
মুসনাদে আহমদের এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখো এবং তাতে ইহুদিদের বিরোধিতা করো; আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখো।’ (মুসনাদে আহমদ: ২১৫৫)
এছাড়া ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছিলেন, ‘যদি আমি আগামী বছর জীবিত থাকি, তাহলে অবশ্যই নবম তারিখেও রোজা রাখব।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৩৪)

কিন্তু পরবর্তী মহররম আসার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। এই নির্দেশনা ও অভিপ্রায়ের আলোকেই ফকিহ ও আলেমগণ বলেন, আশুরার রোজা দুটি রাখা উত্তম। এটি তিনভাবে রাখা যেতে পারে-

১. ৯ ও ১০ মহররম (সর্বোত্তম পদ্ধতি)।

২. ১০ ও ১১ মহররম।

৩. কেউ এই দুদিন রাখতে না পারলে শুধু ১০ মহররম একটি রোজা রাখাই জায়েজ, তবে সেক্ষেত্রে সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ (ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য পরিহার) থেকে বঞ্চিত থাকার সম্ভাবনা থাকে।

আরও পড়ুন: আশুরা নিয়ে প্রচলিত ১১ ভুল ধারণা

২০২৬ সালের আশুরার রোজার তারিখ (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ১৬ জুন সন্ধ্যায় ১৪৪৮ হিজরি সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা নিশ্চিত করেছে। এই হিসাবে ১৭ জুন বুধবার থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হয়েছে এবং ১০ মহররম তথা পবিত্র আশুরা পালিত হবে ২৬ জুন শুক্রবার। যারা সুন্নাহ অনুসরণ করে দুদিন রোজা রাখতে চান, তারা নিচের যে কোনো একটি সময়সূচি অনুসরণ করতে পারেন-

  • ২৫ ও ২৬ জুন, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার)
  • ২৬ ও ২৭ জুন, ২০২৬ (শুক্রবার ও শনিবার)

উভয় ক্ষেত্রেই একজন মুসলমান আশুরার ফজিলত এবং নবীজির (স.) নির্দেশ অনুসারে ইহুদিদের সাথে ভিন্নতা বজায় রাখার সুন্নাহ একসাথে পালন করতে পারবেন।

আশুরার রোজা আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়ার এক বিশেষ সুযোগ। নবীজি (স.) এই আমলের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তাই একজন সচেতন মুমিনের উচিত সাধ্যমতো দুদিন রোজা রাখার মাধ্যমে সুন্নাহকে অনুসরণ করা এবং এক বছরের গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার চেষ্টা করা। তবে কারো পক্ষে দুদিন রোজা রাখা সম্ভব না হলে, শুধু আশুরার দিন (১০ মহররম) একটি রোজা রাখলেও তার রোজা শুদ্ধ হবে এবং আশুরার মূল ফজিলত অর্জিত হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত দিনের রোজা যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।