images

ইসলাম

শেষ বৈঠকে জামাতে শরিক হলে কি পূর্ণ সওয়াব মিলবে?

ধর্ম ডেস্ক

১৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে অনেক সময় মুসল্লি দেরিতে মসজিদে এসে ইমামের সঙ্গে পুরো নামাজ না পেয়ে শুধু শেষ বৈঠক (তাশাহহুদ) পান। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে- এ অবস্থায় কি তিনি জামাত পেয়েছেন বলে গণ্য হবেন? আর জামাতের সওয়াব কি অর্জিত হবে? ফিকহ ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

জামাত পাওয়ার ন্যূনতম সীমা কী?

 

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন নামাজে আসবে, ধীরস্থিরভাবে আসবে; (ইমামের সাথে) যতটুকু পাও, তা আদায় করো; আর যা ছুটে যায়, তা (ইমামের সালাম ফেরানোর পরে) পূর্ণ করে নাও।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৫; সহিহ মুসলিম: ৬০২) এ হাদিসের ভিত্তিতে ফকিহরা বলেন, ইমামের সালাম ফেরানোর আগে নামাজে শরিক হতে পারলে তিনি জামাতে অংশগ্রহণকারী হিসেবে গণ্য হবেন।

শুধু শেষ বৈঠক পেলে কি জামাত পাওয়া যায়?

 

হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের অধিকাংশ আলেমের মতে, কোনো ব্যক্তি যদি ইমামের সালাম ফেরানোর আগে শেষ বৈঠকে (তাশাহহুদে) শরিক হন, তাহলেও তিনি জামাত পেয়েছেন বলে গণ্য হবেন।
এ কারণে শেষ বৈঠকের সময় মসজিদে এসে আলাদা নামাজ শুরু করা সঠিক নয়। বরং প্রথমে জামাতে শরিক হতে হবে, এরপর ইমামের সালাম ফেরানোর পর উঠে নিজের ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো পূর্ণ করতে হবে।

হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতে বলা হয়েছে, ‘কেউ যদি শেষ বৈঠকের সময়ও জামাতে উপস্থিত হয়, তাহলে তার জামাতে শরিক হওয়া উচিত। কারণ, এর মাধ্যমে সে জামাতের মূল সওয়াব লাভ করবে।’ (আদ-দুররুল মুখতার: ২/৫৯; আত-তামহিদ: ৭/৬৯)

আরও পড়ুন: তিন রাকাত হারানো মাসবুক সুরা মেলাবে কোন দুই রাকাতে?

রাকাত পাওয়া এবং জামাত পাওয়া এক বিষয় নয়

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের এক রাকাত পেল, সে নামাজ পেল।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) ফকিহরা বলেন, রুকু পাওয়ার মাধ্যমে একটি রাকাত পাওয়া হয়। তাই শেষ বৈঠকে শরিক হওয়া ব্যক্তি জামাত পেলেও তিনি কোনো রাকাত পাননি। ফলে ইমামের সালামের পর তাকে সম্পূর্ণ নামাজ আদায় করতে হবে।

জামাতের সওয়াব কি পাওয়া যাবে?

ফকিহদের বক্তব্য অনুযায়ী, শেষ বৈঠকে শরিক হলেও মুসল্লি জামাতের মৌলিক সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন না। এ কারণেই আলাদা নামাজ শুরু না করে জামাতে শরিক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইমামের সঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন এবং যিনি কেবল শেষ বৈঠকে শরিক হয়েছেন- উভয়ের সওয়াবের পরিমাণ এক হবে কি না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দলিল পাওয়া যায় না। এজন্য অনেক আলেম পূর্ণ ফজিলত ও মৌলিক জামাতের সওয়াবের পার্থক্য করেছেন।

আরও পড়ুন: ইমামকে সেজদায় পেলে নিজে আগে রুকু করবে?

নিয়ত ও চেষ্টার ভিত্তিতে আল্লাহর অনুগ্রহ

কেউ যদি যথাসাধ্য চেষ্টা করে সময়মতো মসজিদে পৌঁছাতে না পারেন, আল্লাহ তাআলা তার নিয়ত ও পরিশ্রমের ভিত্তিতে পূর্ণ সওয়াব দিতে পারেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভালোভাবে অজু করে মসজিদে গেল, অতঃপর দেখল মানুষ নামাজ পড়ে ফেলেছে, আল্লাহ তাআলা তাকে জামাতে উপস্থিত ব্যক্তিদের সমান সওয়াব দিয়ে দেবেন এবং তাদের সওয়াবে একটুও ঘাটতি করা হবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫৬৪)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, জামাত না পেলেও আল্লাহ তাআলা নিয়ত ও চেষ্টার ভিত্তিতে পূর্ণ সওয়াব দিতে পারেন, যা সম্পূর্ণ তাঁর অনুগ্রহের বিষয়।

অতএব, কেউ যদি ইমামের সঙ্গে শুধু শেষ বৈঠক পান, তাহলেও জামাতে শরিক হওয়া উচিত। এ অবস্থায় আলাদা নামাজ শুরু করা সঠিক নয়। ইমামের সালাম ফেরানোর আগে জামাতে শরিক হলে তিনি জামাত পেয়েছেন বলে গণ্য হবেন এবং জামাতের মৌলিক সওয়াব এমনকি আল্লাহর ইচ্ছায় পূর্ণ সওয়াবও লাভ করতে পারেন। এরপর ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে নিজের বাকি নামাজ আদায় করে নেবেন।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম; সুনানে আবু দাউদ; আত-তামহিদ; আদ-দুররুল মুখতার; আল-মাজমু; আল-মুগনি