images

ইসলাম

প্রিয়নবীজির পরিবার ও আদম (আ.) পর্যন্ত ৮১ পুরুষের বংশধারা

ধর্ম ডেস্ক

১৫ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

মানবজাতির ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হলেন আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (স.)। তিনি তৎকালীন আরবের সবচেয়ে সম্মানিত ‘হাশেমি’ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রচলিত মত অনুযায়ী, তিনি ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার প্রত্যুষে মক্কার পবিত্র ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবী।’ (সুরা আহজাব: ৪০)

একনজরে সংক্ষিপ্ত পারিবারিক পরিচিতি

পবিত্র নাম: মুহাম্মদ (স.)।

উপনাম (কুনিয়াত): আবুল কাসেম।

পিতা: আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব।

মাতা: আমেনা বিনতে ওয়াহহাব।

দাদা ও দাদি: আবদুল মুত্তালিব বিন হাশেম ও ফাতেমা বিনতে আমর।

নানা ও নানি: ওয়াহহাব বিন আবদে মানাফ ও বোররা বিনতে উমজা।

গোত্র ও বংশ: কোরাইশ গোত্রের ‘হাশেমি’ বংশ।

আরও পড়ুন: নবীজির পবিত্র সব নাম

পবিত্র পত্নীগণ

নবীজি (স.)-এর পবিত্র স্ত্রীদের ‘উম্মাহাতুল মুমিনিন’ বা মুমিনদের মাতা বলা হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর তিনি কেবল হজরত খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গেই দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেন। তাঁর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে কখনও অসহায় বিধবাদের আশ্রয় দিতে, কখনও রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায়, আবার কখনও দ্বীনি বিধান প্রচারের প্রয়োজনে তিনি একাধিক বিবাহ করেন।

১. হজরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.): মক্কার বিদূষী ও ধনী নারী, ‘তাহেরা’ উপাধিপ্রাপ্ত। নবুয়তের কঠিন দিনগুলোর পরম আশ্রয়।

২. হজরত সাওদা বিনতে জামআ (রা.): প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লে নবীজি (স.) তাঁকে বিয়ে করে সম্মানিত করেন।

৩. হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.): হজরত আবু বকর (রা.)-এর কন্যা। নবীপত্নীদের মধ্যে একমাত্র কুমারী। তাঁর মাধ্যমে ইসলামের বহু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস ও বিধান উম্মত জানতে পেরেছে।

৪. হজরত হাফসা (রা.): হজরত ওমর (রা.)-এর কন্যা। প্রথম স্বামী যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পর নবীজি (স.) তাঁকে গ্রহণ করেন।

৫. হজরত জয়নাব বিনতে খুজাইমা (রা.): দানশীলতার জন্য ‘উম্মুল মাসাকিন’ নামে পরিচিত। বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ইন্তেকাল করেন।

৬. হজরত উম্মে সালামা (রা.): উহুদ যুদ্ধে আহত হয়ে পরবর্তীতে স্বামী আবু সালামা (রা.) ইন্তেকাল করলে নবীজি (স.) তাঁকে বিবাহ করেন।

৭. হজরত জয়নাব বিনতে জাহশ (রা.): নবীজি (স.)-এর ফুফাতো বোন। আল্লাহর সরাসরি নির্দেশে (সুরা আহজাব) এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।

৮. হজরত জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিছ (রা.): এই বিয়ের সম্মানে সাহাবিরা ওই গোত্রের সব যুদ্ধবন্দীকে মুক্ত করে দেন।

৯. হজরত উম্মে হাবিবা (রা.): আবু সুফিয়ানের কন্যা। হাবশায় স্বামী মারা যাওয়ার পর বাদশাহ নাজ্জাশির মাধ্যমে নবীজি (স.)-এর সঙ্গে বিয়ে হয়।

১০. হজরত সাফিয়া বিনতে হুয়াই (রা.): হজরত হারুন (আ.)-এর অধস্তন বংশধর।

১১. হজরত মায়মুনা বিনতে হারিছ (রা.): প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর নবীজি (স.)-এর সঙ্গে বিয়ে হয়।

আরও পড়ুন: বিশ্বনবী (স.)-এর প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার ১৫ নিদর্শন

নবীজি (স.)-এর সন্তানাদি

নবীজি (স.)-এর মোট সন্তান ছিলেন সাতজন। ইবরাহিম (রা.) ছাড়া বাকি সবাই হজরত খাদিজা (রা.)-এর গর্ভজাত। ফাতিমা (রা.) ছাড়া মহানবী (স.)-এর বাকি সব সন্তান তাঁর জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন।
পুত্র (৩ জন): ১. কাসেম, ২. আবদুল্লাহ (তাহের), ৩. ইবরাহিম।

কন্যা (৪ জন): ৪. জয়নাব, ৫. রোকাইয়া, ৬. উম্মে কুলসুম, ৭. ফাতিমা (রা.)।

বংশধারা: নিশ্চিত ও ঐতিহ্যগত অংশ

প্রথম অংশ: মুহাম্মদ (স.) থেকে আদনান (অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও বংশবিশারদের কাছে গ্রহণযোগ্য অংশ)
১. মুহাম্মদ (স.) ২. আবদুল্লাহ ৩. আবদুল মুত্তালিব ৪. হাশেম ৫. আবদে মানাফ ৬. কুসাই ৭. কিলাব ৮. মুররাহ ৯. কাব ১০. লুওয়াই ১১. গালিব ১২. ফিহর (কুরাইশ) ১৩. মালেক ১৪. নজর ১৫. কিনানাহ ১৬. খুজাইমা ১৭. মুদরিকাহ ১৮. ইলিয়াস ১৯. মুজার ২০. নিজার ২১. মাআদ ২২. আদনান।

দ্বিতীয় অংশ: আদনান থেকে হজরত ইসমাইল (আ.) (ঐতিহ্যগত বর্ণনা)
২৩. আওয়াদ ২৪. হুমাইসা ২৫. সালামান ২৬. আওজ ২৭. বুজ ২৮. কামওয়াল ২৯. উবাই ৩০. আওয়ান ৩১. নাসিদ ৩২. হিজা ৩৩. বালদাস ৩৪. ইয়াদলাফ ৩৫. তাবিখ ৩৬. জাহিম ৩৭. নাহিস ৩৮. মাখি ৩৯. আয়েফ ৪০. আবকার ৪১. উবাইদ ৪২. আদ-দাহা ৪৩. হামদান ৪৪. সানবার ৪৫. ইয়াসরিবি ৪৬. ইয়াহজিন ৪৭. ইয়ালহান ৪৮. ইরাওয়া ৪৯. আইজি ৫০. জিশান ৫১. আইছার ৫২. আফনাদ ৫৩. আইহাম ৫৪. মুকাসির ৫৫. নাহিস ৫৬. জারিহ ৫৭. সামি ৫৮. মাজ্জি ৫৯. ইওয়াদ ৬০. ইরাম ৬১. হিদার ৬২. হজরত ইসমাইল (আ.)।

তৃতীয় অংশ: হজরত ইসমাইল (আ.) থেকে আদি পিতা আদম (আ.)
৬৩. হজরত ইবরাহিম (আ.) ৬৪. তারাহ (তারক) ৬৫. নাহুর ৬৬. সারুজ ৬৭. রাআউ ৬৮. ফালিখ ৬৯. আবির ৭০. আরফাখশাদ ৭১. সাম ৭২. হজরত নুহ (আ.) ৭৩. লামিক ৭৪. মুতাওয়াসশিলাহ ৭৫. হজরত ইদরিস (আ.) ৭৬. ইয়ারিদ ৭৭. মাহলাইল ৭৮. কিনান ৭৯. আনুশ ৮০. হজরত শিস (আ.) ৮১. হজরত আদম (আ.)।

ইসলামি ঐতিহ্য ও ইতিহাসে সংরক্ষিত এই বংশধারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পারিবারিক পরিচয় ও বংশীয় ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ধারাবাহিকতা হজরত ইসমাইল (আ.) ও হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর মাধ্যমে মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.) পর্যন্ত পৌঁছেছে।