images

ইসলাম

জার্সি পরে নামাজ পড়া যাবে কি? যা বলছে ইসলাম

ধর্ম ডেস্ক

১২ জুন ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত এবং ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আমল। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ফরজ। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, খেলার জার্সি বা স্পোর্টস জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে কি না।

জার্সি পরে নামাজের মূল বিধান

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়, যদি পোশাকটি পাক-পবিত্র হয়, সতর আবৃত থাকে এবং নামাজের অন্যান্য শর্ত পূরণ হয়। তবে জার্সিতে কী ধরনের ছবি বা নকশা রয়েছে, সে বিষয়টি ফিকহি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।

ছবিযুক্ত জার্সির বিধান

ফকিহদের মতে, জার্সিতে যদি মানুষ বা প্রাণীর স্পষ্ট ছবি থাকে, তাহলে সেই পোশাক পরে নামাজ আদায় হয়ে যাবে; তবে নামাজ মাকরুহ হবে। ছবিটি যদি এতটাই ছোট বা অস্পষ্ট হয় যে দূর থেকে সহজে চেনা না যায়, তাহলে মাকরুহ হওয়ার কারণ থাকে না।

আর বৃক্ষ, পাহাড়, নদী বা অন্যান্য প্রাণহীন বস্তুর ছবি থাকলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯; মিরকাতুল মাফাতিহ: ৪৪৮৯)

আরও পড়ুন: কাপড়ে প্রাণীর ছবি থাকলে নামাজ হবে?

নামাজে সুন্দর ও শালীন পোশাকের নির্দেশ

নামাজের সময় পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরিধান করা ইসলামের শিক্ষা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় তোমাদের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছদ গ্রহণ করো।’ (সুরা আরাফ: ৩১)

আলেমরা বলেন, এ আয়াত নামাজের সময় উত্তম ও পরিপাটি পোশাক পরিধানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। তাই নামাজের জন্য এমন পোশাক নির্বাচন করা উচিত, যা শালীন, পরিচ্ছন্ন এবং নামাজের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জার্সিতে দলের নাম বা লোগো থাকলে

বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ফুটবল বা ক্রিকেট জার্সিতে বিভিন্ন দলের নাম, লোগো, স্পনসর প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, নম্বর বা খেলোয়াড়ের নাম থাকে। এসব লেখা, নম্বর বা সাধারণ লোগো থাকার কারণে নামাজের কোনো সমস্যা হয় না। তবে যদি তাতে অনৈতিক বার্তা বা শরিয়তবিরোধী কোনো বিষয় থাকে কিংবা জীবন্ত প্রাণীর বড় ছবি থাকে, তাহলে তা পরিহার করা উচিত।

আরও পড়ুন: যেসব কারণে রহমতের ফেরেশতা ঘরে ঢুকতে পারে না

নামাজের আদবের প্রতি গুরুত্ব

ফিকহের কিতাবগুলোতে উল্লেখ আছে, এমন পোশাক পরে নামাজ আদায় করা মাকরুহ, যা সাধারণ মানুষের সামনে পরিধান করতে লজ্জাবোধ হয় বা যা নামাজের মর্যাদার পরিপন্থী। ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, যে পোশাক পরে বন্ধুমহল বা পরিচিতজনের সামনে যেতে সংকোচ হয়, সেই পোশাক পরে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোও অনুচিত। (খুলাসাতুল ফতোয়া: ১/৫৮; আল-মুহিতুল বুরহানি: ২/১৩৯; আল-বাহরুর রায়েক: ১/১০৭)

সুতরাং, জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে নামাজ শুদ্ধ হবে, তবে শর্ত হলো পোশাকটি পবিত্র ও সতর আবৃতকারী হতে হবে। প্রাণীর স্পষ্ট ছবি থাকলে নামাজ মাকরুহ হবে। নামাজের খুশু-খুজু ও আদব বজায় রাখতে পরিচ্ছন্ন, শালীন এবং প্রাণীর স্পষ্ট ছবিমুক্ত পোশাক পরিধান করাই উত্তম। নামাজ হলো মহান রবের দরবারে হাজিরা দেওয়ার ইবাদত। তাই এ ইবাদতের জন্য পরিচ্ছন্ন, শালীন ও মর্যাদাপূর্ণ পোশাক বেছে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।