ধর্ম ডেস্ক
২৬ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
মুসলমানদের শরিয়াভিত্তিক জীবন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন হজের খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি। মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরায় হজের খুতবায় তিনি এ আহ্বান জানান।
খুতবায় তিনি বলেন, হজ হলো বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার এক অনন্য প্রতিফলন। কঠিন সময়ে মুসলিম উম্মাহকে ধৈর্য ধারণ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমেই বান্দা পরকালে মুক্তি লাভ করতে পারে। পরকালের শ্রেষ্ঠ প্রস্তুতি হলো তওহিদ এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। পাশাপাশি তিনি হাজিদের সততা বজায় রাখা এবং মিথ্যাচার ও গিবত থেকে দূরে থাকার নসিহত করেন।
খুতবা শেষে বিশেষ মোনাজাতে খতিব দোয়া করেন, ‘হে আল্লাহ! হাজিদের দোয়া ও ইবাদত কবুল করুন, তাদের জন্য সবকিছু সহজ করে দিন এবং তাদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফেরার তওফিক দান করুন।’
খুতবার সময় মসজিদে নামিরায় সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান, ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী শায়খ আবদুল লতিফ আলে শায়খ, মসজিদে হারামের পরিচালনা পরিষদের প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস এবং মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল বিন আব্দুল আজিজসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খুতবা শেষে মসজিদে নামিরায় জোহর ও আছরের নামাজ আদায় করেন হাজিরা।
আরও পড়ুন: আরাফাতে হাজিরা কতক্ষণ থাকবেন, কী আমল করবেন
চলতি বছর বাংলাসহ ৫০টি ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়। এ নিয়ে টানা সপ্তম বারের মতো বাংলায় হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার হলো। বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে ছিলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব।
এদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ২০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান সাদা ইহরামে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। নানা জাতি, ভাষা ও বর্ণের মানুষ একই উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনা করেন। ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় ১৪০০ বছর আগে বিদায় হজে মহানবী মুহাম্মদ (স.) এই আরাফাতের ময়দানেই ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বুধবার পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং শুরু হবে ঈদুল আজহা। এরপর কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করে হাজিরা নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবেন।