images

ইসলাম

শরিকের হারাম আয়ের খবর না জানলে নিজের কোরবানি হবে?

ধর্ম ডেস্ক

২৬ মে ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

গরু বা মহিষের কোরবানিতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হওয়া বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে- যদি কোনো শরিকের উপার্জন হারাম হয়, তাহলে অন্য শরিকদের কোরবানি শুদ্ধ হবে কি? বিশেষ করে কেউ যদি এ বিষয়টি আগে থেকে না জানেন, তাহলে তার কোরবানির হুকুম কী- এ নিয়ে অনেকের মনে সংশয় থাকে।

শরিকদের নিয়ত ও অর্থের উৎস গুরুত্বপূর্ণ

ফিকহবিদদের মতে, কোরবানিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের নিয়ত ও অর্থের উৎস আলাদাভাবে বিবেচিত হয়। হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে উল্লেখ আছে, শরিকদের সবার উদ্দেশ্য ইবাদত হওয়া জরুরি। যদি একজনের উদ্দেশ্য শুধু গোশত অর্জন হয়, তাহলে কারও কোরবানিই আদায় হবে না। (খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩০০) একইভাবে ফতোয়ায়ে শামিতেও বলা হয়েছে, কোনো শরিকের উপার্জনের পুরোটা হারাম হলে তার কারণে অন্য শরিকদের কোরবানিও বাতিল হয়ে যাবে। (খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩২৬) রদ্দুল মুহতার, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ও তাতারখানিয়াতেও স্পষ্টভাবে এসেছে যে, শরিকদের মধ্যে কেউ যদি শুধু গোশতের উদ্দেশ্যে অংশ নেন, তাহলে অন্য কারও কোরবানিই সহিহ হবে না।

আরও পড়ুন: শরিকদের কেউ কম টাকা দিলে কোরবানি শুদ্ধ হবে?

হারামের খবর না জানলে কোরবানি শুদ্ধ হবে

তবে কোনো শরিকের উপার্জন হারাম, এ তথ্য যদি অন্য শরিকদের জানা না থাকে, তাহলে তাদের কোরবানি সহিহ হবে। কারণ শরিয়তে মানুষকে বাহ্যিক অবস্থা অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়; অন্যের গোপন বিষয় যাচাই করার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের ওপর নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কেউ অন্যের বোঝা বহন করবে না।’ (সুরা আনআম: ১৬৪) এবং ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা: ২৮৬) এ আয়াতদ্বয়ের আলোকে ফকিহরা বলেন, একজনের গুনাহ বা অবৈধ উপার্জনের দায় অন্য নির্দোষ শরিকদের ওপর বর্তাবে না, যদি তারা তা সম্পর্কে অবগত না থাকেন।

জেনেশুনে শরিক করা উচিত নয়

তবে যদি নির্ভরযোগ্যভাবে জানা যায় যে কারও আয় প্রধানত হারাম উৎসভিত্তিক, তাহলে তাকে শরিক না করাই উচিত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র; তিনি পবিত্র ও হালাল ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)

আরও পড়ুন: কোরবানিতে শরিকের সংখ্যা বিজোড় হওয়া কি উত্তম? 

যাদের সঙ্গে শরিক হওয়া থেকে সতর্ক থাকবেন

আলেমরা বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলেছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে- প্রকাশ্য মাদক ব্যবসায়ী; সুদ ও হারাম আয়ের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি এবং কেবল গোশতের উদ্দেশ্যে শরিক হতে আগ্রহী ব্যক্তি।

সন্দেহের ভিত্তিতে অপবাদ নয়

একইসঙ্গে ইসলাম কাউকে সন্দেহের ভিত্তিতে হারামখোর সাব্যস্ত করতেও নিরুৎসাহিত করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা ও সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকো।’ (সুরা হুজরাত: ১২) তাই নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া কাউকে হারাম উপার্জনকারী বলা নিজের জন্যই গুনাহের কাজ হতে পারে।

সর্বোপরি, কোরবানি হলো তাকওয়া ও আল্লাহর আনুগত্যের প্রতীক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এগুলোর গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ: ৩৭) আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার ইবাদত কবুল করুন এবং হালাল উপার্জন ও বিশুদ্ধ নিয়তে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।