images

ইসলাম

কেন আরাফার দিন এত বেশি মহিমান্বিত?

ধর্ম ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানেই ৯ জিলহজে হাজিরা অবস্থান করেন, যা হজের মূল রুকন এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল।

আরাফাতে অবস্থানই হজ

হজের সবচেয়ে বড় ও অপরিহার্য আমল হলো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা (উকুফে আরাফা)। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে এই সালাত আদায় করেছে আর এর আগে আরাফায় অবস্থান করেছে- দিনে বা রাতে, তার হজ পূর্ণ হয়েছে এবং সে তার ইহরাম শেষ করেছে।’ (সুনানে নাসায়ি: ৩০৪৪)’ 

বছরের শ্রেষ্ঠ দিন

আরাফার দিনকে হাদিসে বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘আল্লাহর কাছে আরাফাতের দিনের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৩/২৫৬)

ঈদের অংশ হিসেবে মর্যাদা

আরাফার দিন ইসলামের আনন্দ ও ঈদের অংশ হিসেবেও গণ্য। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘আরাফাতের দিন, কোরবানির দিন এবং তাশরিকের দিনগুলো আমাদের ঈদের দিন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৪২১)

আরও পড়ুন: আরাফার ময়দানে কতক্ষণ থাকতে হবে, কী দোয়া পড়বেন- সম্পূর্ণ গাইড

ইসলামের পূর্ণতার দিন

আরাফার দিনেই নাজিল হয় ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা- ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলাম তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।’ (সুরা মায়েদা: ৩) এ দিন ইসলাম পূর্ণতা লাভ করে এবং আল্লাহ তাঁর নিয়ামত সম্পূর্ণ করেন।

জাহান্নাম থেকে মুক্তির দিন

এ দিনে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। (ইবনে মাজাহ: ৩৯১৪)

রোজার বিশেষ ফজিলত

আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘আমি আশা করি, আরাফার দিনের রোজা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)

আরও পড়ুন: আরাফার দিন রোজা রাখার পুরস্কার

শ্রেষ্ঠ দোয়ার দিন

আরাফার দিনের দোয়া ইসলামে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৮৫) সর্বোত্তম দোয়ার মধ্যে রয়েছে তাওহিদের এই জিকির- ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।’

আরাফার দিন হজের প্রাণ, ক্ষমা লাভের মহাসুযোগ এবং ইসলামের পূর্ণতার ঐতিহাসিক দিন। এ দিনে আল্লাহর রহমত বিশেষভাবে অবতীর্ণ হয়, বান্দারা ক্ষমা লাভ করে এবং দোয়া কবুলের দরজা খুলে যায়। তাই এই দিনটি ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির সর্বোচ্চ সুযোগ।