images

ইসলাম

মক্কার ঐতিহাসিক গুহাগুলো এখন কেমন

ধর্ম ডেস্ক

১১ মে ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

ইসলামের ইতিহাসে মক্কার কয়েকটি গুহার গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। বিশেষ করে জাবালে নূরের গারে হেরা এবং জাবালে সাওরের গারে সাওর মুসলিম বিশ্বের কাছে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা ও আবেগের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এসব গুহা ধর্মপ্রাণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হলেও বর্তমানে সৌদি আরব এগুলোকে আধুনিক অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পর্যটন ব্যবস্থার আওতায় নতুনভাবে সাজাচ্ছে।

গারে হেরা: ওহির স্মৃতিধন্য গুহায় আধুনিক ছোঁয়া

মক্কার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবালে নূর পাহাড়ে গারে হেরার অবস্থান। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) প্রথম ওহি লাভ করেন। ছোট্ট এই গুহাটি প্রায় ৩ মিটার দীর্ঘ এবং দেড় থেকে দুই মিটার প্রশস্ত। ঐতিহাসিক বর্ণনায় জানা যায়, গুহার অবস্থান থেকে কাবা শরিফের দিক দেখা যেত। তবে আধুনিক নগরায়ণ ও আবরাজ আল-বাইত কমপ্লেক্স নির্মাণের ফলে সেই দৃশ্যমানতা এখন অনেকাংশে সীমিত হয়ে গেছে; এখন দর্শনার্থীরা সাধারণত ক্লক টাওয়ারকে দিকনির্দেশনা হিসেবে ব্যবহার করেন।

আগে গুহায় পৌঁছাতে দুর্গম ও পাথুরে পথ পাড়ি দিতে হতো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি সরকার ও রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড হোলি সাইটস (আরসিএমসি) গুহাটির পথ উন্নয়ন করেছে। নতুন পাকা সিঁড়ি, আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা ক্যামেরা ও বিশ্রামব্যবস্থাসহ আধুনিক ট্রেইল চালু করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরম, খাড়া পথ ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: নবীজির স্মৃতিবিজড়িত মদিনার সেই কূপগুলো

গুহার পাদদেশে হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্ট নামে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে ইসলামি ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী, জাদুঘর, খাবার, বিশ্রাম ও তথ্যসেবা রয়েছে।

সৌদি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাবালে নূর এলাকায় কেবল কার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে আরসিএমসি ও সামায়া ইনভেস্টমেন্ট। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল দর্শনার্থীদের জন্য গুহা ভ্রমণ অনেক সহজ হবে।

গারে সাওর: হিজরতের স্মৃতিবিজড়িত গুহা

মক্কার দক্ষিণে জাবালে সাওরের গুহাটিও ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধারণ করে। মহানবী (স.) ও হজরত আবু বকর (রা.) মদিনায় হিজরতের সময় তিন রাত এই গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ছোট আকৃতির এই গুহাটি প্রায় সাড়ে তিন মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থবিশিষ্ট। মূল প্রবেশপথটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পাহাড়ের অপর পাশে একটি তুলনামূলক প্রশস্ত পথ ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে গুহার আশপাশেও উন্নয়নকাজ চলছে। পাহাড়ে ওঠার জন্য নির্দিষ্ট পথ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

জিয়ারত নিয়ে ইসলামি অবস্থান

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী গারে হেরা বা গারে সাওর জিয়ারত হজের ফরজ বা আবশ্যিক অংশ নয়। তবে ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক আগ্রহ থেকে বহু মুসল্লি সেখানে যান।

ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণে সৌদির পরিকল্পনা

সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে মক্কার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলো নতুনভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হচ্ছে। আরসিএমসি মক্কার বহু ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ চলছে।

আরও পড়ুন: ৭০ নবীর স্মৃতিধন্য ‘মসজিদ আল-খাইফ’

Gemini_Generated_Image_n5vu3xn5vu3xn5vu_(1)

এর লক্ষ্য শুধু দর্শনার্থী বৃদ্ধি নয়, ধর্মীয় ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। তবে কিছু গবেষক ও ইতিহাস-আগ্রহী মানুষের মতে, অতিরিক্ত আধুনিকায়নের ফলে পুরোনো মক্কার ঐতিহাসিক আবহ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

pilgrims-hira-and-saur

আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান

বর্তমানে গারে হেরা ও গারে সাওর মক্কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষ এসব স্থানে গিয়ে ইসলামের সূচনালগ্নের স্মৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করার চেষ্টা করেন। আধুনিক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও বহু মানুষের কাছে এই গুহাগুলো এখনো গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতির প্রতীক হয়ে আছে।