images

ইসলাম

হজে অজুর সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন

ধর্ম ডেস্ক

০৪ মে ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

হজ ও ওমরার প্রতিটি আমল কবুল হওয়ার প্রথম শর্ত হলো সঠিক পদ্ধতিতে পবিত্রতা অর্জন করা। কিন্তু মক্কা-মদিনার বিশাল ভিড়, ক্লান্তি বা তাড়াহুড়োর কারণে অনেক সময় হাজিরা অজুর ফরজ কাজগুলোতে অসতর্ক হয়ে পড়েন। বিশেষ করে হাত ও পা ধোয়ার সময় কিছু ছোট ভুল অজুকে অসম্পূর্ণ করে দিতে পারে, যার ফলে নামাজ শুদ্ধ না হওয়ার এবং তাওয়াফের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অজুর সময় সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

১. কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়ায় অসতর্কতা

অজুর অন্যতম ফরজ হলো দুই হাত কনুইসহ ভালোভাবে ধোয়া। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেকে কনুইয়ের পেছনের অংশ শুকনো রেখে দেন। ইহরামের কাপড় বা ভারী পোশাকের কারণে হাত পুরোপুরি কনুই পর্যন্ত ধোয়া সম্ভব না হলে অজু অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মনে রাখবেন, সামান্য কোনো অংশও শুকনো থাকলে অজু পূর্ণ হবে না।

২. আঙুলের ফাঁক (খিলাল) না করা

হাত ও পা ধোয়ার সময় আঙুলের মাঝখানের অংশে পানি পৌঁছানো জরুরি। শুধু ওপর দিয়ে পানি ঢেলে দিলে আঙুলের ভাঁজে পানি নাও পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে যাদের আঙুলগুলো পরস্পর লেগে থাকে, তাদের অবশ্যই আঙুল ‘খিলাল’ করতে হবে।

আরও পড়ুন: অজুর পূর্ণতা: হারিয়ে যাওয়া কিছু সুন্নাহর খোঁজে

৩. পায়ের গোড়ালি শুকনো থাকা

রাসুলুল্লাহ (স.) অজুর সময় পায়ের গোড়ালি শুকনো রাখার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন, যা সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। হজের ভিড়ে দ্রুত অজু করতে গিয়ে অনেকেই এই ভুল করেন। তাই পা ধোয়ার সময় গোড়ালি এবং গোড়ালির পেছনের অংশ ভালো করে ঘষে ধোয়া নিশ্চিত করুন।

haj-oju-makka

৪. আংটির নিচে পানি না পৌঁছানো

হাতে টাইট আংটি পরলে চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা হতে পারে। অজুর সময় আংটি সামান্য সরিয়ে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় অজু পূর্ণ হবে না। (ইহরাম অবস্থায় ঘড়ি পরিধান না করলেও সাধারণ সময়ে ঘড়ি থাকলে একই নিয়ম প্রযোজ্য।)

৫. নখের কোণে কোনো বাধা থাকা

হজের দীর্ঘ সফরে বিভিন্ন কারণে নখের কোণে ময়লা জমতে পারে। নখ বড় থাকলে এবং ময়লা কঠিন পদার্থের হলে তার নিচে পানি পৌঁছাতে সমস্যা হয়। অজুর আগেই নিশ্চিত করুন যে নখের কোণে বা নিচে পানি পৌঁছাতে কোনো বাধা নেই।

হাজিদের জন্য জরুরি পরামর্শ

অজুর সময় কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করবেন না। প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার পর একটু মনোযোগ দিয়ে দেখুন পানি সব জায়গায় পৌঁছেছে কি না। ভিড় এড়িয়ে অজুর জন্য পর্যাপ্ত সময় নিন। মনে রাখবেন, অজু সম্পূর্ণ না হলে নামাজ শুদ্ধ হবে না এবং তাওয়াফও সওয়াবহীন করে দিতে পারে।