ঢাকা মেইল ডেস্ক
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০১ পিএম
পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন ও কঠোর স্বাস্থ্য নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরব। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা এ বছর হজ পালনের অনুমতি (পারমিট) পাওয়ার যোগ্য হবেন না। একই সঙ্গে হজযাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানায়, হজের শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য আনুষ্ঠানিকতা নিরাপদে সম্পন্ন করার সক্ষমতা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব শারীরিক অবস্থায় হজে অংশ নেওয়া যাবে না, তার মধ্যে রয়েছে- ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন গুরুতর কিডনি রোগ, হৃদযন্ত্রের গুরুতর ব্যর্থতা বা হার্ট ফেইলিউর, লিভার সিরোসিস, জটিল মানসিক রোগ, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ, বার্ধক্যজনিত গুরুতর শারীরিক দুর্বলতা এবং গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে থাকা অন্তঃসত্ত্বা নারী।
আরও পড়ুন: বিমানে ইহরাম বাঁধার সহজ পদ্ধতি
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজে অংশগ্রহণের জন্য এমন শারীরিক অবস্থা থাকা আবশ্যক, যাতে কোনো বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই সব ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সব হজযাত্রীর জন্য মেনিনজোকক্কাল মেনিনজাইটিস ভ্যাকসিন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোয়াড্রিভ্যালেন্ট ভ্যাকসিনের একটি ডোজ হজ শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে নিতে হবে।
উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য- বিশেষ করে বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি ও শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের জন্য করোনা (COVID-19) ও মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার আপডেট ডোজ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের পূর্ববর্তী টিকার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের পুনরায় ডোজ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজযাত্রীদের এমন সুস্থ অবস্থায় থাকা প্রয়োজন যাতে তারা কোনো বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা ছাড়াই হজের সব রোকন সম্পন্ন করতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মানুষের সমাগমের কারণে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রতি বছর এ ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়।
সূত্র: গালফ নিউজ