images

ইসলাম

সুলাইমান (আ.)-এর ‘রাজকীয় হজ’: ইতিহাসের আড়ালে থাকা বর্ণনা

ধর্ম ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

পৃথিবীর ইতিহাসে হজরত সুলাইমান (আ.)-এর রাজত্বকাল ছিল এক বিস্ময়কর অধ্যায়। জ্বিন-ইনসান ও পশুপাখির ওপর তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা পবিত্র কোরআনেই বর্ণিত হয়েছে। তবে বায়তুল মোকাদ্দাস বা মসজিদ আল-আকসা নির্মাণের পর তাঁর মক্কায় আগমন ও হজের বিবরণ নিয়ে ইতিহাসের কিতাবগুলোতে এমন কিছু চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যায়, যা সচরাচর আলোচনা করা হয় না।

বাতাসে সিংহাসনে চড়ে মক্কার পথে

বর্ণনা অনুযায়ী, সুলাইমান (আ.) যখন বায়তুল মোকাদ্দাস নির্মাণের কাজ শেষ করেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে হজের নিয়ত করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর সেই সফরটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। বিশাল সিংহাসনে চড়ে বাতাসের মাধ্যমে তিনি সফর করেন এবং তাঁর মাথার ওপর পাখিরা ডানা মেলে ছায়া দিয়ে রাখত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: কাবা শরিফ সম্পর্কে অবাক করা কিছু ঐতিহাসিক তথ্য

বিস্ময়কর কোরবানির বিবরণ

এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো কোরবানির সংখ্যা। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া এবং তারিখে তাবারি’র মতো ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুলাইমান (আ.) এই সফরে বিপুল সংখ্যক পশু কোরবানি করেছিলেন। কিছু বর্ণনায় উল্লেখ আছে, তিনি মক্কায় অবস্থানকালে প্রতিদিন ৫ হাজার উট, ৫ হাজার গরু এবং ২০ হাজার ছাগল জবাই করতেন।

কাবার চত্বরে বাদশাহর বিনয়

ইতিহাসবিদগণ লিখেছেন, এত বিশাল প্রতিপত্তির অধিকারী হয়েও সুলাইমান (আ.) যখন কাবার সীমানায় পৌঁছাতেন, তখন তিনি চরম বিনয় অবলম্বন করতেন। তিনি মক্কার দরিদ্র মানুষদের আপ্যায়ন করতেন এবং সেখানে অবস্থানকালে বিপুল পরিমাণ দান-সদকা করতেন। তিনি কাবার সামনে একজন সাধারণ দাসের মতো মস্তক অবনত রাখতেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন: দামেস্কের যে মসজিদে ঈসা (আ.) অবতরণ করবেন

বর্ণনাগুলোর ঐতিহাসিক ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা

সুলাইমান (আ.)-এর হজের এই বিস্তারিত কাহিনি মূলত ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’, ‘তারিখে তাবারি’ এবং ইমাম ইবনে জাওজি (রহ.)-এর ‘আল-মুনতাজাম’ গ্রন্থে বিদ্যমান। তবে এই বিবরণগুলো ‘ইসরাইলি রেওয়ায়েত’ ও প্রাচীন ঐতিহাসিকদের সংগৃহীত বর্ণনা হিসেবেই বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ এ ঘটনা সহিহ বা নির্ভরযোগ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। ইসলামি স্কলারদের মতে, এ ধরনের বর্ণনার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো- যদি তা কোরআন ও সহিহ হাদিসের বিপরীত না হয়, তাহলে তা সাধারণ ইতিহাস হিসেবে বর্ণনা করা যায়; কিন্তু সেটিকে ইসলামের অকাট্য দলিল বা প্রামাণ্য ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

হজরত সুলাইমান (আ.)-এর এই সফরটি মূলত আল্লাহর প্রতি একজন নবী ও বাদশাহর কৃতজ্ঞতার এক অনন্য চিত্র তুলে ধরে। তথ্যের সূক্ষ্মতা নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ থাকলেও, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর ত্যাগ ও বিনয়ের কথা ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে।