ধর্ম ডেস্ক
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
হিজরি বর্ষপঞ্জির জিলকদ মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে হজের প্রস্তুতি চূড়ান্ত রূপ পায়। আল্লাহর ঘর জেয়ারতের উদ্দেশ্যে যারা যাত্রা করেন, তাঁরা ‘দুয়ুফুর রহমান’ বা আল্লাহর সম্মানিত মেহমান। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘হজযাত্রী ও ওমরাযাত্রীরা আল্লাহর প্রতিনিধিদল। তারা তাঁর নিকট দোয়া করলে তিনি তাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাঁর নিকট মাফ চাইলে তিনি তাদের ক্ষমা করেন।’ (ইবনু মাজাহ: ২৮৯২)
এই পবিত্র সফরে তাঁদের বিদায় জানানো এবং সফরের সফলতা ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি ও সামাজিক দায়িত্ব।
রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিদের বিদায় দেওয়ার সময় এই দোয়াটি পড়তেন-
আরবি: أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ
উচ্চারণ: আস্তাউদিউল্লা-হা দীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতীমা আমালিকা
অর্থ: আমি আপনার দ্বীন, আপনার আমানত এবং আপনার আমলের শেষ পরিণাম আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম। (আবু দাউদ: ২৬০১; তিরমিজি: ৩৪৪২, ৩৪৪৪)
আরও পড়ুন: হজযাত্রীদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও করণীয়
হজযাত্রীরা যখন পবিত্র ভূমিতে অবস্থান করেন, তখন তাঁদের জন্য আমরা নিচের দোয়াগুলো করতে পারি। যদিও এই বাক্যগুলো সরাসরি হাদিসের শব্দ নয়, তবে এগুলো দোয়ার আদব ও সুন্নাহর ভাষাগত শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন: হজের সফর শুরুর আগে ৫ করণীয়
হজযাত্রীরা যেহেতু ইবাদতের সফরে থাকেন, তাই তাঁদের দোয়া কবুল হওয়ার কথা হাদিসে উল্লেখ আছে। এজন্য বিদায়ের সময় তাঁদের কাছে দোয়া চাওয়া সুন্নাহ। রাসুলুল্লাহ (স.) ওমর (রা.)-কে ওমরার সফরে বিদায় দেওয়ার সময় বলেছিলেন- لَا تَنْسَنَا يَا أُخَيَّ مِنْ دُعَائِكَ ‘হে ভাই! তোমার দোয়ার মধ্যে আমাদের ভুলে যেও না।’ (আবু দাউদ: ১৪৯৮)
আপনি যখন কোনো হজযাত্রীর জন্য অগোচরে দোয়া করবেন, তখন ফেরেশতারা আপনার জন্যও দোয়া করেন। হাদিসে এসেছে- ‘একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের জন্য অগোচরে দোয়া করলে তার জন্য এক ফেরেশতা আমিন বলে এই দোয়া করেন- ‘তোমার জন্যও অনুরূপ।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭৩২) তাই হাজিদের জন্য দোয়া করা মানে নিজের জন্যই রহমত ও সওয়াব কামনা করা।
যখন লাখো হৃদয় কাবার চত্বরে, আরাফার ময়দানে ও মিনার তাঁবুতে আল্লাহর দরবারে নিবেদিত ও রোনাজারি করছেন, তখন আমাদের দায়িত্ব তাঁদের জন্য হৃদয় উজাড় করে দোয়া করা। হে আল্লাহ! আপনি সকল হাজিকে সঠিকভাবে হজ সম্পাদন করার তাওফিক দান করুন। তাঁদের ত্যাগ ও যাবতীয় কার্যক্রম কবুল করে নিয়ে তাঁদেরকে ‘হজে মাবরুর’ নসিব করুন। আমাদেরকেও আপনার ঘর জিয়ারত করার এবং আপনার নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।