ধর্ম ডেস্ক
১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন ও সেবার মান নিশ্চিত করতে কঠোর নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান পরপর তিনবার অনিয়ম করলে তাদের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে। এছাড়া বারবার ভুলের জন্য দ্বিগুণ জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠান সিলগালার মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে।
শনিবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জিলকদ মাসের শুরু থেকে মহররমের মাঝামাঝি পর্যন্ত অর্থাৎ পুরো হজ মৌসুম জুড়ে এই বিশেষ নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। মূলত আল্লাহর মেহমানদের নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতেই সৌদি সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান একই ধরনের অনিয়ম বারবার করলে প্রতিবারই জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে কোনো প্রতিষ্ঠান একবার অনিয়ম করার পর পুনরায় একই অপরাধ করলে তাদের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দ্বিগুণ জরিমানা আরোপ করা হবে। এমনকি মৌসুম শেষ হওয়ার পরেও যদি আগের কোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবুও কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।
আরও পড়ুন: হজের নিয়ত কখন কীভাবে করতে হয়?
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শুধু আর্থিক জরিমানাই নয়, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান টানা তিনবার নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়ার ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষের হাতে রাখা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে জরিমানার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পাঁচ তারকা হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ মানের আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুযায়ী জরিমানার হার এভাবে বণ্টিত হবে-
আরও পড়ুন: হজে যেসব ভুল থেকে সতর্কতা কাম্য
মক্কা ও মদিনার হোটেল ও আবাসন খাতের জন্য জরিমানার পরিমাণ ২ হাজার রিয়াল থেকে শুরু করে ১৪ হাজার রিয়াল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অস্থায়ী আবাসন বা হজের বিশেষ ক্যাম্পগুলোর ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌদি সরকারের এই নতুন নীতিমালার মাধ্যমে হাজিদের সেবায় অবহেলা ও অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। যারা আল্লাহর মেহমানদের সেবায় প্রতারণা বা অবহেলার আশ্রয় নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিল দেশটি।