ধর্ম ডেস্ক
০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
ঈদের দীর্ঘ আনন্দ ও ছুটির আমেজ শেষ হওয়ার পর আবার চিরচেনা ব্যস্ত জীবনে ফিরতে অনেকেরই মন সায় দেয় না। কাজের একঘেয়েমি, মনোযোগের অভাব আর রোদবৃষ্টির এই গুমোট আবহাওয়ায় শরীরের অলসতা- সব মিলিয়ে কর্মজীবীরা এক অস্থির সময় পার করেন। তবে ইসলাম কেবল ইবাদতের ধর্ম নয়, এটি জীবনকে গতিশীল ও কর্মতৎপর রাখার শিক্ষা দেয়। অলসতা কাটিয়ে কাজে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে কিছু কার্যকরী দাওয়াই ও জীবনপদ্ধতি নিচে তুলে ধরা হলো।
ইসলামে অলসতাকে একটি মানসিক ব্যাধি হিসেবে দেখা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) প্রতিদিন অলসতা ও অক্ষমতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেন- ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে...’ (সহিহ বুখারি)। কাজের প্রথম কয়েকদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এই দোয়াটি পাঠ করলে মনের জড়তা দ্রুত কাটে এবং কাজের স্পৃহা বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: মন ভালো না থাকলে যে দোয়া পড়বেন
একঘেয়েমি কাটানোর সবচেয়ে বড় দাওয়াই হলো ‘নিয়ত’ বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন। আমরা যদি কাজকে কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে ‘পরিবারের জন্য হালাল রিজিক আহরণ’ বা ‘জনসেবা’ হিসেবে গ্রহণ করি, তাহলে তা আর বোঝা মনে হয় না। ইসলামে হালাল উপার্জনের প্রচেষ্টাকে জিহাদের সমতুল্য সওয়াব দেওয়া হয়েছে। এই চেতনা মনে থাকলে কাজের প্রতি অন্যরকম উৎসাহ তৈরি হয়।
ছুটির দিনে আমরা সাধারণত দেরিতে ঘুম থেকে উঠি। কাজে ফেরার প্রথম দিনগুলোতেও এটি ক্লান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাসুলুল্লাহ (স.) দোয়া করেছেন- ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য সকালবেলার সময়ে বরকত দিন।’ (সুনানে তিরমিজি)। ফজরের পর ঘুম না দিয়ে সরাসরি কাজ বা দিনের পরিকল্পনা গুছিয়ে নিলে কাজের চাপ অনেক হালকা মনে হয়। সকালের স্নিগ্ধ বাতাস ও শান্ত পরিবেশ মনোযোগ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন: অন্তর ও আমল পরিশুদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
কাজের একঘেয়েমিতে ছোট বিরতি নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অজু কেবল পবিত্রতা আনে না, এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে। পাশাপাশি চলতে-ফিরতে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বা ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’-এর মতো ছোট জিকিরগুলো মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং কাজের ক্লান্তি দূর করে।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কাজের একঘেয়েমি কাটাতে সবচেয়ে বড় দাওয়াই। দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা বা মিটিংয়ের ক্লান্তি কাটাতে নামাজের বিরতি মনকে স্রষ্টার সঙ্গে সংযুক্ত করে। এটি মস্তিষ্ককে ‘রি-বুট’ করার মতো কাজ করে, যা পরবর্তী কাজের জন্য নতুন শক্তি জোগায়।
আরও পড়ুন: নামাজ আল্লাহর কাছে গৃহীত হওয়ার জন্য ৫ বিষয় খেয়াল রাখবেন
ঈদের ভারী খাবারের রেশ কাটাতে এই সময়ে পরিমিত ও সুন্নাহসম্মত খাদ্যাভ্যাস জরুরি। অতিরিক্ত আহার শরীরকে ভারী ও অলস করে দেয়। পাশাপাশি রাতে দ্রুত ঘুমানোর সুন্নাহ মেনে চললে সকালে কর্মস্পৃহা বজায় থাকে।
অলসতা মূলত শয়তানের প্ররোচনা। মহান আল্লাহ পরিশ্রমী মানুষকে ভালোবাসেন। ঈদের আনন্দ কাটিয়ে আবার উদ্যমী হয়ে কাজে ফেরা একজন সচেতন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে এবং নবীর (সা.) নির্দেশিত এই আমলগুলো মেনে চললে কাজের একঘেয়েমি কাটিয়ে জীবন হয়ে ওঠে বরকতময়, গতিশীল ও সৃজনশীল।