images

ইসলাম

অজুর পানি মুছে ফেলা কি শরিয়তসম্মত?

ধর্ম ডেস্ক

২৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম ইবাদত হলো অজু। অজুর পর শরীরের পানি মোছা বা শুকানো নিয়ে আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন, অজুর পানি মুছে ফেললে সওয়াব কমে যায় বা এটি সুন্নাহবিরোধী। তবে হাদিস ও ফিকহের নির্ভরযোগ্য উৎসগুলো পর্যালোচনা করলে বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার ও সহজভাবে ধরা দেয়।

মূল বিধান: এটি কি জায়েজ?

ইসলামি শরিয়তের নির্ভরযোগ্য ফতোয়া অনুযায়ী, অজুর পর রুমাল, তোয়ালে বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পানি মোছা সম্পূর্ণ জায়েজ। এটিকে গুনাহ বা মাকরুহ মনে করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই। বরং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পানি মুছে ফেলা স্বাভাবিক ও অনুমোদিত একটি বিষয়।

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর আমল

হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (স.) থেকে এ বিষয়ে উভয় ধরনের আমলই পাওয়া যায়-
মোছার প্রমাণ: উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (স.)-এর একটি কাপড় ছিল, যা দিয়ে তিনি অজুর পর পানি মুছতেন।’ (সুনানে তিরমিজি: ৫৩)
না মোছার প্রমাণ: অন্যদিকে, কিছু হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার গোসলের পর তোয়ালে ব্যবহার করেননি। (সহিহ মুসলিম: ৩১৭)
বিশ্লেষণ: এই বর্ণনাগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, অজুর পর পানি মোছা বা না মোছা উভয়ই বৈধ। এটি মূলত আবহাওয়া, প্রয়োজন ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

আরও পড়ুন: গরম পানি দিয়ে অজু করলে কি সওয়াব কমে যায়?

অজুর পানির সাথে গুনাহ ঝরে যাওয়ার রহস্য

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, অজুর মাধ্যমে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার সময় গুনাহগুলো পানির সাথে বের হয়ে যায় (মুসলিম: ২৪৪)। অনেকে এই হাদিসের ভিত্তিতে পানি না মোছাকে উত্তম মনে করেন। তবে আলেমদের মতে, এটি একটি আধ্যাত্মিক দিক। পানির সাথে গুনাহ শরীর থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর সেই পানি শরীরে মেখে রাখা বা না মোছার সাথে সওয়াব কমা-বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

কখন পানি মোছা উত্তম?

ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে পানি মুছে ফেলাই শ্রেয়-

  • শীতকালে বা ঠান্ডাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে
  • অসুস্থ অবস্থায় শরীর ভেজা রাখা ক্ষতিকর হলে
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রয়োজনে তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করা

ইসলাম সহজতা ও ভারসাম্যের জীবনবিধান। অজুর মতো প্রাত্যহিক ইবাদতের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা বা ভুল ধারণা পরিহার করা উচিত। সঠিক জ্ঞান অর্জন করে সে অনুযায়ী আমল করাই একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়।