images

ইসলাম

ঈদের দিন ক্ষমা লাভের মহিমান্বিত ৪ আমল

ধর্ম ডেস্ক

২১ মার্চ ২০২৬, ১২:১০ পিএম

ঈদুল ফিতর কেবল আনন্দ উৎসবের দিন নয়, বরং এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও রহমত লাভের চূড়ান্ত সময়। শরিয়তসম্মত আমলগুলোর মাধ্যমে এই দিনে নিজেকে গুনাহমুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। নিচে দলিলসহ এমন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো-

১. কৃতজ্ঞতার নামাজ ও ক্ষমা প্রার্থনা

ঈদের দিনের প্রধান আমল হলো ঈদের নামাজ। এটি মূলত রমজানের ইবাদত কবুলের শুকরিয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা নিশ্চিত করার এক মহিমান্বিত জমায়েত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন- ‘অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)। মুফাসসিরগণের মতে, ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করে, যা তার পূর্ববর্তী ছোটখাটো ত্রুটি বিচ্যুতি ক্ষমা ও আল্লাহর রহমত লাভের পথ প্রশস্ত করে।

আরও পড়ুন: কৃতজ্ঞতা: ঈমানের সৌন্দর্য ও নেয়ামত বৃদ্ধির চাবিকাঠি 

২. সদকাতুল ফিতরের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন

ঈদের অন্যতম আমল সদকাতুল ফিতর, যা সরাসরি রোজাদারকে পাপমুক্ত করার সাথে সম্পৃক্ত। হাদিসে এসেছে- ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন রোজাদারকে অশ্লীলতা ও অনর্থক কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য এবং অভাবী মানুষের খাদ্যের সংস্থানের জন্য।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৬০৯)। এই আমলটি রমজানের রোজার ভুলত্রুটিগুলো ধুয়ে মুছে বান্দাকে পবিত্র করে এবং আল্লাহর বিশেষ রহমতের যোগ্য করে তোলে।

৩. তাকবিরের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা ও শুকরিয়া

ঈদের দিন উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করা আল্লাহর মহিমা ঘোষণার মাধ্যমে ক্ষমা লাভের একটি মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহ তোমাদের যে পথ প্রদর্শন করেছেন, সেজন্য তোমরা আল্লাহর মহিমা (তাকবির) ঘোষণা করো এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)। আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণার মাধ্যমে বান্দা যখন তার অযোগ্যতা স্বীকার করে শুকরিয়া আদায় করে, তখন আল্লাহ তার ওপর রহমতের দৃষ্টি দেন এবং তাকে ক্ষমা করেন।

আরও পড়ুন: ঈদের দিনে তাকবির ধ্বনির গুরুত্ব

৪. পারস্পরিক দোয়ার মাধ্যমে কবুলিয়াত নিশ্চিত করা

ঈদের দিন সাহাবায়ে কেরাম একে অপরের জন্য দোয়া করতেন- ‘তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ (আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন)। (ফাতহুল বারি, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা: ৪৪৬)। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, একে অপরের জন্য ইবাদত কবুলের দোয়া করা ক্ষমা লাভের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কারণ, যখন আল্লাহ কারো আমল কবুল করেন, তখন তার সাথে রহমত ও মাগফিরাত বা গুনাহ মাফও অবধারিত হয়ে যায়।

ঈদের এই পবিত্র দিনে আনন্দ করার পাশাপাশি উল্লিখিত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভ সহজ হয়। রমজানের শিক্ষা ধারণ করে এই দিনে ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই মুমিনের প্রকৃত সফলতা।