images

ইসলাম

দরুদ ও দোয়া শেষ হওয়ার আগেই ইমাম সালাম ফেরালে কী করবেন?

ধর্ম ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

মুমিন জীবনের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো সালাত বা নামাজ। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে কালেমার পরই সালাতের স্থান। পরকালে মহান আল্লাহর দরবারে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘কেয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে।’ (জামেউত তিরমিজি)

দৈনন্দিন জীবনে জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে মুসল্লিদের অনেক সময় কিছু বাস্তব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে ইমাম সাহেব দ্রুত নামাজ পড়ালে অনেক মুসল্লি তাশাহুদ বা দুরুদ শরিফ শেষ করার আগেই ইমামের পরবর্তী আমল শুরু হয়ে যায়। এ অবস্থায় মুসল্লির করণীয় কী- তা নিয়ে একটি ফিকহি গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ শেষ না হলে করণীয়

জামাতে নামাজের প্রথম বৈঠকে মুসল্লি তাশাহুদ (আত্তাহিয়াতু) শেষ করার আগেই যদি ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান, তবে মুসল্লি বসা থেকে সরাসরি দাঁড়িয়ে যাবেন না। বরং তিনি যথাসম্ভব দ্রুত তাশাহুদ পাঠ শেষ করবেন এবং এরপর দাঁড়িয়ে ইমামের সাথে যুক্ত হবেন। যেহেতু তাশাহুদ পড়া ওয়াজিব, তাই এটি অসম্পূর্ণ রেখে দাঁড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
সতর্কতা: এ ক্ষেত্রে ফিকহি সতর্কতা হলো- তাশাহুদ দ্রুত শেষ করতে গিয়ে যেন এমন অতিরিক্ত বিলম্ব না হয়, যাতে ইমামের সাথে নামাজের মূল বিন্যাসে বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। অর্থাৎ যতটুকু সম্ভব দ্রুততা বজায় রেখে ওয়াজিব আদায় করে ইমামের অনুগামী হতে হবে।

আরও পড়ুন: তারাবি নামাজ একা পড়া যাবে কি

২. শেষ বৈঠকে দুরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ার বিধান

নামাজের শেষ বৈঠকে অনেক সময় দেখা যায়, মুসল্লি দুরুদ শরিফ বা দোয়া মাসুরা শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে ফেলেছেন। এ ক্ষেত্রে নিয়মটি প্রথম বৈঠকের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।
ইসলামি আইন ও ফিকহশাস্ত্রবিদদের মতে, শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পড়া ওয়াজিব হলেও দুরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা পড়া সুন্নাহ। অন্যদিকে, জামাতে নামাজে ইমামের অনুসরণ করা মুসল্লির জন্য ওয়াজিব। তাই আপনার দুরুদ-দোয়া শেষ হওয়ার আগেই যদি ইমাম সালাম ফিরিয়ে দেন, তাহলে দুরুদ বা দোয়া অসম্পূর্ণ রেখেই ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। কারণ সুন্নাহ আদায়ের চেয়ে ইমামের অনুসরণ করা এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: তারাবি না পড়লে রোজা মাকরুহ হবে?

৩. ফিকহি নির্দেশনার সারসংক্ষেপ

উল্লিখিত মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি হলো-
তাশাহুদ: ইমামের আগে শেষ করতে না পারলে, দ্রুত তা শেষ করে ইমামের অনুগামী হতে হবে।
দুরুদ ও দোয়া: ইমাম সালাম ফেরালে এগুলো অসম্পূর্ণ রেখেই ইমামের সাথে সালাম ফেরাতে হবে।

নামাজ হলো মহান আল্লাহর সাথে একান্তে কথোপকথন। জামাতে নামাজ পড়ার সময় ইমাম ও মুসল্লি উভয়েরই ধীরস্থিরতা বজায় রাখা উচিত। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে ইমাম দ্রুত করলে মুসল্লিকে উপরোক্ত শরয়ি নিয়ম অনুসরণ করে নামাজ সম্পন্ন করতে হবে। এতে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না, ইনশাআল্লাহ।

(ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৯০; ফতোয়ায়ে খানিয়া: ১/৯৬; শরহুল মুনইয়া: পৃ-৫২৭; মুখতারাতুন নাওয়াজিল: ১/২৯৯; খুলাসাতুল ফতোয়া:  ১/১৫৯)