ধর্ম ডেস্ক
০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
পবিত্র রমজান মাসে আকাশে মহাজাগতিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ কৌতূহল তৈরি হয়। এবারের রমজানেও একটি বিরল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। এই মহাজাগতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে ইমাম মাহদির আগমনের সেই বহুপ্রার্থিত সংকেত। এবারের মহাজাগতিক হিসাবটি ফিকহি ও বিজ্ঞান উভয় দিক থেকেই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
রমজানে গ্রহণ নিয়ে সুনানে দারাকুতনি কিতাবে একটি বর্ণনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইমাম মাহদির আগমনের দুটি বড় নিদর্শন হলো- রমজানের প্রথম রাতে চন্দ্রগ্রহণ এবং মাঝখানে সূর্যগ্রহণ হওয়া।
তবে হাদিস বিশারদদের মতে, এই বর্ণনাটি সরাসরি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কথা নয়, বরং একজন তাবেয়ির উক্তি। এছাড়া বর্ণনার সূত্রটিও ‘জঈফ’ বা দুর্বল। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, অতীতে বহুবার রমজান মাসে গ্রহণ হলেও ইমাম মাহদির আবির্ভাব ঘটেনি।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) তথ্যমতে, এ বছর রমজানে শুধুমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হতে যাচ্ছে। সূর্যগ্রহণটি রমজান শুরুর আগেই অতিবাহিত হয়ে গেছে। যেহেতু আলোচিত বর্ণনায় একই রমজানের ভেতর চন্দ্র ও সূর্য উভয় গ্রহণের শর্ত দেওয়া হয়েছে, তাই এ বছরের একক চন্দ্রগ্রহণকে সেই সুনির্দিষ্ট সংকেত হিসেবে দেখার শারয়ি কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: সূর্যগ্রহণ: নামাজের নিয়ম ও নবীজির দিকনির্দেশনা
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ যখন পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে, তখন সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের গায়ে পড়ে। এতে চাঁদ গাঢ় লাল বা তামাটে রঙ ধারণ করে। বিজ্ঞানের ভাষায় একেই বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ আল্লাহর ক্ষমতার বিশেষ নিদর্শন মাত্র। রাসুলুল্লাহ (স.) গ্রহণের বিষয়ে প্রচলিত সব কুসংস্কারের অবসান ঘটিয়েছেন। সহিহ বুখারির ১০৪৪ নম্বর হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দুটি নিদর্শন। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে এগুলো গ্রহণ হয় না। সুতরাং যখন তোমরা তা দেখবে, তখন আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হও।’
আরও পড়ুন: সূর্য কি সত্যিই পশ্চিম দিক থেকে উঠবে? সহিহ হাদিস কী বলে
চন্দ্রগ্রহণ কেবল উপভোগের বিষয় নয়, এটি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সময়। এ সময় মুমিনের সুন্নাহ আমলগুলো হলো-
রমজানে বিরল এই চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে তওবা ও ইবাদতে মশগুল থাকাই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। এটি ইমাম মাহদির আগমনের বার্তা কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, এটি যে মহান স্রষ্টার অসীম কুদরতের প্রকাশ, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ১০৪৪; দারাকুতনি: ২/৬৫; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া; ফতোয়ায়ে শামি