ধর্ম ডেস্ক
০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
জাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং এটি সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর বাধ্যতামূলক ইবাদত। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে, জাকাত কেবল স্বর্ণ বা রুপার অলঙ্কার থাকলেই দিতে হয়। কিন্তু শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সঞ্চিত নগদ টাকাও জাকাতের আওতাভুক্ত। আপনার কাছে যদি কোনো স্বর্ণ না-ও থাকে, তবুও নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ টাকা থাকলে আপনাকে জাকাত দিতে হবে।
জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের একটি সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারিত আছে, যাকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘নিসাব’ বলা হয়। নিসাব নির্ধারণের দুটি মৌলিক মানদণ্ড রয়েছে-
যদি কোনো ব্যক্তির কাছে স্বর্ণ বা রুপা না থাকে, কিন্তু শুধু নগদ টাকা গচ্ছিত থাকে, তবে জাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে রুপার নিসাবকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ, আপনার সঞ্চিত নগদ টাকার পরিমাণ যদি বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ৫২.৫ তোলা রুপার দামের সমপরিমাণ হয়, তাহলে আপনার ওপর জাকাত ফরজ হবে। রুপার নিসাবকে মানদণ্ড ধরার প্রধান কারণ হলো- এতে জাকাতদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সমাজের দরিদ্র মানুষেরা অধিক উপকৃত হয়।
আরও পড়ুন: জাকাতের উপযুক্ত কারা? আত্মীয়-স্বজনদের জাকাত দেওয়ার বিধান কী?
নগদ টাকার ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিচের শর্তগুলো পূরণ হওয়া জরুরি-
আরও পড়ুন: আপন ভাইকে হাদিয়া বলে জাকাত দেওয়া যাবে?
আপনার নিসাব পরিমাণ টাকা যদি এক বছর গচ্ছিত থাকে, তাহলে মোট জমানো টাকার ২.৫ শতাংশ (অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় ২ টাকা ৫০ পয়সা) জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হবে। ব্যাংকে জমা রাখা টাকা, প্রাইজবন্ড বা ঘরে গচ্ছিত নগদ টাকা সবই এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।
জাকাত কেবল ধনিক শ্রেণির শৌখিনতা নয়, বরং এটি দরিদ্রের প্রাপ্য অধিকার এবং সম্পদ পবিত্র করার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আপনার কাছে স্বর্ণ থাকুক বা না থাকুক, সঞ্চিত নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক পণ্য যদি নিসাবের শর্ত পূরণ করে, তবে দেরি না করে জাকাত আদায় করা আপনার ঈমানি দায়িত্ব। সঠিকভাবে জাকাত আদায়ের মাধ্যমেই সম্পদে মহান আল্লাহর বরকত লাভ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: আল-মুহিতুল বুরহানি, রদ্দুল মুহতার, বাদায়েউস সানায়ে।