images

ইসলাম

মাগফিরাতের দশক: আল্লাহর ক্ষমা পেতে যেসব আমল করবেন

ধর্ম ডেস্ক

০১ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

রহমতের ১০ দিন পেরিয়ে পবিত্র রমজান এখন মাগফিরাতের দশকে। ১১তম রোজা থেকে ২০তম রোজা পর্যন্ত সময়টি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমা লাভের মহাসুযোগ। এই দশকে মুমিনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ঐকান্তিক তওবা, আত্মশুদ্ধি এবং যাপিত জীবনের সব গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার চেষ্টা করা।
মাগফিরাতের এই দিনগুলোতে ইবাদতে গতি ফেরাতে এবং আল্লাহর ক্ষমা লাভে যেসব আমলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন-

১. তওবা ও ইস্তেগফার

ক্ষমার দশকের মূল আমলই হলো বেশি বেশি ইস্তেগফার করা। ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ জিকির সর্বদা মুখে জারি রাখা। হাদিসে এসেছে, মহানবী (স.) প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। বিশেষ করে ‘সায়্যিদুল ইস্তেগফার’ (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া) নিয়মিত পাঠ করা উত্তম। অন্তরের গভীর অনুশোচনা এবং ভবিষ্যতে পাপ পরিহারের দৃঢ় সংকল্পই হলো প্রকৃত তওবার শর্ত।

২. ক্ষমা লাভের বিশেষ দোয়া

মাগফিরাতের এই দিনগুলোতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা অর্জনে কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি বারবার পড়া যেতে পারে-
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ
উচ্চারণ: রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন; আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সুরা মুমিনুন: ১১৮)
এছাড়াও মাগফিরাতের সময় ছোট এই দোয়াটি বেশি পড়ার পরামর্শ দেন আলেমরা-
اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِيْ ذُنُوْبِيْ يَا رَبَّ الْعَالَمِيْنَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলী জুনুবী ইয়া রাব্বাল আলামীন।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

আরও পড়ুন: ইফতার ও সাহরির সময়ের ৫ গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

৩. অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে গুনাহ থেকে হেফাজত করা

রোজা কেবল পানাহার বর্জনের নাম নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরকে সব ধরনের গুনাহ থেকে রক্ষা করাই সিয়ামের প্রকৃত চেতনা। মিথ্যা, গিবত, অশ্লীল কথা, প্রতারণা ও যাবতীয় অন্যায় থেকে নিজেকে দূরে রাখা অপরিহার্য। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা এবং মন্দ কাজ পরিত্যাগ করেনি, তার পানাহার বর্জন করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি: ১৯০৩)। অর্থাৎ রোজার পূর্ণতা পেতে বাহ্যিক সংযমের পাশাপাশি অন্তরের পবিত্রতাও জরুরি।

৪. তাহাজ্জুদ ও শেষ রাতের দোয়া

মাগফিরাত লাভের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো শেষ রাতের ইবাদত। সাহরির আগে কিছু সময় বের করে তাহাজ্জুদ আদায় করা এবং একান্ত মোনাজাতে চোখের পানি ফেলে ক্ষমা চাওয়া এই দশকের শ্রেষ্ঠ আমল। রাতের শেষভাগ মহান আল্লাহর রহমত ও দোয়া কবুলের বিশেষ সময়।

৫. কোরআন তেলাওয়াত ও অনুধাবন

রমজান কোরআন নাজিলের মাস। তাই নিয়মিত তেলাওয়াতের পাশাপাশি এর মর্ম অনুধাবনের চেষ্টা করা উচিত। বিশেষ করে ক্ষমা ও রহমত সম্পর্কিত আয়াতগুলো পাঠ করলে অন্তরে তওবার অনুভূতি জাগ্রত হয়।

আরও পড়ুন: রমজানে অন্তত একবার কোরআন বুঝে পড়ার আহ্বান শায়খ আহমাদুল্লাহর

৬. মানুষের ভুলত্রুটি ক্ষমা করা

আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের একটি গোপন সূত্র হলো- অন্যের প্রতি ক্ষমাশীল হওয়া। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী বা অধীনস্তদের প্রতি মনে কোনো ক্ষোভ পুষে না রেখে এই দশকে তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। যারা মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করতে পছন্দ করেন।

৭. নফল ইবাদত ও জিকির

ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল নামাজে যত্নবান হতে হবে। কাজের ফাঁকে বা যাতায়াতের সময় ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ এবং বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করলে আমলের পাল্লা ভারী হয়।

৮. দান-সদকা ও পরোপকার

দান-সদকা গুনাহের আগুনকে নিভিয়ে দেয়। মাগফিরাতের দিনগুলোতে সাধ্য অনুযায়ী অভাবীদের সহায়তা করা, ইফতার করানো বা আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সহজ উপায়।

মাগফিরাতের এই ১০ দিন মূলত নিজেকে আমূল বদলে ফেলার এক প্রশিক্ষণ। কেবল প্রথাগত উপবাস নয়, বরং অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে পাপমুক্ত রেখে এবং তওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়াই হোক আমাদের লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই বরকতময় দশকে পূর্ণ মাগফিরাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।