ধর্ম ডেস্ক
০১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
রহমতের ১০ দিন শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজানের দ্বিতীয় ভাগ বা মাগফিরাতের দশক। ১১তম রোজা থেকে ২০তম রোজা পর্যন্ত এই সময়টি মূলত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়ার বিশেষ সুযোগ। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিনরা এই দিনগুলোতে অতীতের যাবতীয় গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে সচেষ্ট থাকেন।
মাগফিরাতের এই দিনগুলোতে সারাক্ষণ আমল করার মতো অত্যন্ত সহজ কিছু দোয়া রয়েছে। যারা কর্মব্যস্ত থাকেন, তারা চলতে-ফিরতে বা অবসরে এই জিকিরগুলো মুখে জারি রাখতে পারেন।
এই দশকের প্রধান আমল হলো নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। এজন্য নিচের ছোট দোয়াগুলো সর্বদা পাঠ করা যেতে পারে-
আরও পড়ুন: রমজানের বিশেষ ২১ আমল
ছোট জিকিরগুলোর পাশাপাশি পবিত্র কোরআনে বর্ণিত নিচের অর্থবহ দোয়াগুলো বেশি বেশি পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতের কাজ-
১. ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা: رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ
উচ্চারণ: রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।
অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর রহম করুন; আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সুরা মুমিনুন: ১১৮)
২. পাপ স্বীকার ও অনুশোচনা: رَبِّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি জ্বালামতু নাফসি ফাগফিরলি।
অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! নিশ্চয়ই আমি নিজের ওপর জুলুম করে ফেলেছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুরা কাসাস: ১৬)
আরও পড়ুন: রহমত থেকে নাজাত: রমজানে প্রতিদিনের মাসনুন দোয়ার তালিকা
ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো অন্তরকে গুনাহমুক্ত রাখা। হাদিস অনুযায়ী, রমজানের এই বরকতময় সময়েও যে ব্যক্তি ক্ষমা পেল না, সে অত্যন্ত দুর্ভাগা। তাই সিয়াম পালনের পাশাপাশি ইস্তিগফার পাঠ করাই মুমিনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আলেমদের মতে, ফরজ নামাজের পর, তাহাজ্জুদের সময় এবং সাহরির ঠিক আগে নির্জনে বসে দোয়া করলে তা কবুলের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়া ইফতারের আগমুহূর্তে এই ইস্তিগফারগুলো পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর। সময়ের চাকায় রমজান দ্রুত অতিবাহিত হচ্ছে। অবহেলায় মূল্যবান মুহূর্ত নষ্ট না করে কোরআন-হাদিসের এই বিশেষ দোয়াগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়াই হোক আমাদের লক্ষ্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের মাগফিরাতের এই বরকতময় দশকে পূর্ণ ক্ষমা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।