বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

রহমত থেকে নাজাত: রমজানে প্রতিদিনের মাসনুন দোয়ার তালিকা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

রহমত থেকে নাজাত: পুরো রমজানে প্রতিদিনের মাসনুন দোয়ার তালিকা

রমজান দোয়া কবুলের বিশেষ মাস। হাদিসে এসেছে, তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না; তাঁদের একজন হলেন রোজাদার- যখন তিনি ইফতার করেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫২) রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাসে প্রতিদিনের আমলে কিছু দোয়া যুক্ত করলে ইবাদতের পরিপূর্ণতা বাড়ে। নিচে ধাপে ধাপে একটি দালিলিক গাইড তুলে ধরা হলো।

১. প্রতিদিনের আমল: সাহরি ও ইফতার

সাহরির দোয়া: সাহরি শুরু করার সময় পড়বেন- بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ
উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ।’
অর্থ: ‘আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের সঙ্গে (খাবার শুরু করছি)।’ (আল-হিসনুল হাসিন, পৃ. ২৫৫)
আর সাহরি শেষ করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। এক্ষেত্রে সংক্ষেপে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে পারেন অথবা শুকরিয়ার যেকোনো মাসনুন দোয়া পড়া যাবে।

ইফতারের দোয়া: রাসুলুল্লাহ (স.) ইফতার করার পর পড়তেন- 
আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
উচ্চারণ: জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ। 
অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে পুরস্কার নির্ধারিত হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৭)

ইফতারের সময় রাসুল (স.) এই দোয়া পড়তেন—
আরবি: اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।’ (আবু দাউদ: ২৩৫০, মুজামুল আওসাত: ৭৫৪৯) 

আরও পড়ুন: ইফতারের বরকতময় মুহূর্ত: কিছু মাসনুন আমল 


বিজ্ঞাপন


২. প্রথম দশক: রহমতের দোয়া

রমজানের প্রথমাংশে আল্লাহর রহমত লাভের জন্য কোরআনের এই দোয়াটি বেশি পড়া যেতে পারে- 
আরবি: رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ: রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ক্ষমা করুন ও রহম করুন; রহমকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। (সুরা মুমিনুন: ১১৮)

৩. দ্বিতীয় দশক: মাগফেরাতের দোয়া

রমজানের মধ্যভাগে বেশি বেশি ইস্তেগফার করা সুন্নাহসম্মত আমল। সংক্ষিপ্ত একটি দোয়া-
আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিন ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি আমার পালনকর্তা আল্লাহর কাছে সব গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি। উল্লেখ্য, এ সময় ‘সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার’ পাঠ করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ (সহিহ বুখারি)

আরও পড়ুন: রমজানের বিশেষ ২১ আমল 

৪. শেষ দশক: নাজাত ও কদরের দোয়া

শেষ দশক নাজাতের সময়। লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা এ সময়ের মূল আমল।
কদরের বিশেষ দোয়া: হজরত আয়েশা (রা.)-কে রাসুল (স.) শিখিয়েছিলেন-
আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (জামে তিরমিজি: ৩৫১৩)

জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া
আরবি: اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯)

৫. রমজানজুড়ে বেশি পড়ার ৪ দোয়া/আমল 

হাদিসে রমজানে চারটি আমল বেশি করার কথা উল্লেখ আছে-
১. কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বেশি পড়া।
২. বেশি বেশি ইস্তেগফার।
৩. জান্নাত প্রার্থনা।
৪. জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া। (মেশকাত: ১৯৬৩)

আরও পড়ুন: জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া কী

দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

আলেমদের মতে রমজানে দোয়া কবুলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো-

  • সাহরির পরে
  • ইফতারের আগ মুহূর্ত
  • শেষ রাত ও তাহাজ্জুদের সময়

পবিত্র রমজানে মুখস্থ কিছু শব্দ উচ্চারণের চেয়ে অর্থ বুঝে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাই দোয়ার প্রকৃত রূপ। রহমত থেকে মাগফিরাত, মাগফিরাত থেকে নাজাত- এই ধারাবাহিক যাত্রায় প্রতিদিনের আমলে দোয়া যুক্ত করাই হতে পারে রমজানের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর