ধর্ম ডেস্ক
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালনরত অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা বা আঘাতের কারণে শরীর থেকে রক্ত বের হলে অনেক রোজাদারের মনে সংশয় জাগে। আবার চিকিৎসার প্রয়োজনে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত বের করা কিংবা সিঙ্গা (হিজামা) লাগানোরও প্রয়োজন হতে পারে। ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এই বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি।
শরিয়তের একটি সর্বজনগ্রাহ্য মূলনীতি হলো- শরীরের ভেতর কোনো কিছু প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায়, কিন্তু শরীর থেকে কোনো কিছু বের হলে (সাধারণত) রোজা নষ্ট হয় না। একমাত্র ব্যতিক্রম হলো বীর্যপাত ও ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করা। ইবনু আব্বাস (রা.) এবং ইকরিমাহ (রহ.) বলেন, কোনোকিছু ভিতরে প্রবেশ করলে সওম নষ্ট হয়; কিন্তু বের হওয়ার কারণে নয়। (বুখারি: ১৯৩৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯২৭৬)
আরও পড়ুন: যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়
হঠাৎ কোনো আঘাত বা দুর্ঘটনার কারণে শরীর থেকে রক্ত বের হলেও রোজা অক্ষুণ্ণ থাকে। এমনকি রক্তের পরিমাণ যদি বেশিও হয়, তবুও রোজা ভাঙবে না। ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুযায়ী, শরীর থেকে রক্ত বের হওয়া রোজা ভঙ্গের কোনো কারণ নয়। একইভাবে, চিকিৎসার প্রয়োজনে সিরিঞ্জ দিয়ে শরীর থেকে রক্ত বের করলেও রোজা নষ্ট হয় না। আধুনিক ফিকহবিদদের মতে, চিকিৎসার প্রয়োজনে ইনজেকশন বা সিরিঞ্জের মাধ্যমে রক্ত বের করা এবং রক্তক্ষরণ হওয়া- উভয় ক্ষেত্রেই রোজা ভাঙবে না।
রাসুলুল্লাহ (স.) স্বয়ং রোজা রাখা অবস্থায় সিঙ্গা বা হিজামা ব্যবহার করেছিলেন। (সহিহ বুখারি: ১৯৩৯) সাহাবি হজরত আনাস (রা.)-কে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, আপনারা কি রোজাদারের জন্য সিঙ্গা ব্যবহার করা অপছন্দ করতেন? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘না; তবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে ভিন্ন কথা।’ অর্থাৎ রক্ত বের হওয়া রোজা ভঙ্গের কারণ নয়, তবে শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ার ভয় থাকলে তা করা অনুচিত।
আরও পড়ুন: রোজা ভেঙে যাওয়া নিয়ে ৩০ ভুল ধারণা অনেকেরই আছে
বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে শরীর থেকে এ পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরুহ, যার কারণে রোজাদার অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন এবং ওই দিনের রোজা পূর্ণ করার শক্তি হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে। তাই সামর্থ্য থাকলে রক্ত দান বা এ জাতীয় কাজের জন্য ইফতারের পরের সময়টিকে বেছে নেওয়া উত্তম।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় রক্তক্ষরণ, শরীর কেটে যাওয়া কিংবা নাক দিয়ে রক্ত পড়া- এসবে রোজা ভাঙে না। চিকিৎসার প্রয়োজনে সিরিঞ্জ বা হিজামা করলেও রোজা অক্ষুণ্ণ থাকে। সুতরাং এ জাতীয় পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে রোজা পূর্ণ করাই শরিয়তের বিধান।
(বুখারি: ১৯৩৮, ১৯৪০; আল-মুহিতুল বুরহানি: ৩/৩৫৬; আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৭৩; ফিকহুন নাওয়াজিল: ২/৩০০)