images

ইসলাম

ফাতেমা (রা.)-এর বিদায় ও সেই রহস্যময় হাসি

ধর্ম ডেস্ক

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

ইসলামি ইতিহাসে ৩ রমজান একটি তাৎপর্যপূর্ণ তারিখ। ইতিহাসবিদদের অধিকাংশের মতে, হিজরি ১১ সনের এই দিনে ইন্তেকাল করেন বিশ্বনবী (স.)-এর কনিষ্ঠ কন্যা ফাতেমা (রা.)। নবীজির ওফাতের প্রায় ছয় মাস পর তাঁর এই প্রস্থান মুসলিম ঐতিহ্যে বিশেষভাবে আলোচিত। বিশেষত, অন্তিম সময়ে তাঁর কান্না ও হাসির ঘটনাটি হাদিস ও সিরাতগ্রন্থে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।

কান্না ও হাসির প্রেক্ষাপট

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর অসুস্থতার শেষ সময়ে ফাতেমা (রা.)-কে কাছে ডেকে কানে কানে কিছু বলেছিলেন। তা শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিছুক্ষণ পর আবারও কিছু বললে তাঁর মুখে হাসি ফুটে ওঠে। পরে এ ঘটনার ব্যাখ্যায় ফাতেমা (রা.) জানান, প্রথমবার নবীজি (স.) তাঁর নিকটবর্তী ওফাতের সংবাদ দিয়েছিলেন, যা তাঁকে গভীরভাবে শোকাহত করে। দ্বিতীয়বার তিনি সুসংবাদ দেন- ‘আমার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে।’ এই প্রতিশ্রুতিই ছিল তাঁর হাসির কারণ। ঐতিহাসিক এই ঘটনাটি সহিহ বুখারি-তে বর্ণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফাতেমা (রা.) ঘুমিয়ে পড়লে ফেরেশতারা কি তাঁর কাজ করে দিতেন?

পর্দার রক্ষাকবচ ও ‘নাআশ’

ফাতেমা (রা.) ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পর্দার বিষয়ে আজীবন সচেতন ছিলেন। বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়, মৃত্যুর আগে তিনি অসিয়ত করেন যেন তাঁর মরদেহ এমনভাবে বহন করা হয়, যাতে অবয়ব স্পষ্ট না হয়। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী হজরত আসমা বিনতে উমাইস (রা.) হাবশায় প্রচলিত ‘নাআশ’- ঘের দেওয়া খাটিয়ার ধারণা উপস্থাপন করেন। ইসলামি ঐতিহ্যে এটিকেই জানাজার খাটিয়ায় পর্দাব্যবস্থার প্রাথমিক প্রচলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী ৩ রমজানের রাতে তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। এ বিষয়ে প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় সিয়ারু আলামিন নুবালা ও আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে।

আরও পড়ুন: তাসবিহে ফাতেমি: আমলের পদ্ধতি ও ফজিলত

ইতিহাসের পাতায় ৩ রমজান

রমজানের তৃতীয় দিনটি ইসলামের ইতিহাসে আরও কয়েকটি ঘটনার স্মারক। হিজরি ২ সনের এই দিনে নবীজি (স.) সাহাবিদের নিয়ে মদিনা থেকে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। আবার ৩৫০ হিজরিতে আন্দালুসে (স্পেন) ক্ষমতায় বসেন খলিফা আল-হাকাম দ্বিতীয় (আল-হাকাম আল-মুস্তানসির বিল্লাহ), যাঁর আমলে কর্ডোভায় জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষা ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে।

৩ রমজান একদিকে যেমন বদরের অভিযাত্রার স্মৃতি বহন করে, অন্যদিকে ফাতেমা (রা.)-এর ধৈর্য, সংযম ও বিশ্বাসের দৃষ্টান্তকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তের সেই কান্না ও হাসি মুসলিম ঐতিহ্যে শোক ও আশার এক গভীর মানবিক অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৩৯৫১, ৩৬২৪; সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/১২৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া।