ধর্ম ডেস্ক
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
পবিত্র রমজান মাসে সঠিক সময়ে ইফতার করা সিয়াম সাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সাধারণত মসজিদ থেকে মাগরিবের আজান শোনার পরই রোজাদাররা ইফতার করেন। তবে কোনো কারণে যদি সময় হওয়ার পরও আজান শোনা না যায়, সে ক্ষেত্রে আজানের অপেক্ষায় থাকা কি জরুরি? শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ইসলামি শরিয়তের অকাট্য বিধান অনুযায়ী, ইফতারের সময় আজানের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি সরাসরি সূর্যাস্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকার নামই রোজা। পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার মাধ্যমেই রোজার সময়কাল শেষ হয় এবং ইফতারের ওয়াক্ত শুরু হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- ‘অতঃপর তোমরা রোজা পূর্ণ করো রাতের আগমন (সূর্যাস্ত) পর্যন্ত।’ (সুরা বাকারা: ১৮৭)
আজান হলো ইফতারের সময় হওয়ার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সংকেত মাত্র। যদি নির্ভরযোগ্য ঘড়ি বা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সময়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে আজান না হলেও ইফতার করা সম্পূর্ণ জায়েজ।
আরও পড়ুন: ইফতারের বরকতময় মুহূর্ত: কিছু মাসনুন আমল
সূর্যাস্তের পর অনর্থক দেরি না করে দ্রুত ইফতার করা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘মানুষ ততদিন পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে, যতদিন তারা অনতিবিলম্বে ইফতার করবে।’ (সহিহ বুখারি: ১৮২১; সহিহ মুসলিম: ১৮৩৮)
অন্য একটি হাদিসে নবী কারিম (স.) দ্রুত ইফতার করাকে মুসলিম উম্মাহর স্বাতন্ত্র্য ও দ্বীনের ওপর অটল থাকার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দ্বীন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে; কেননা পূর্ববর্তী কিছু জাতি বিলম্বে ইফতার করত।’ (সুনানে আবু দাওদ: ২৩৫৫)
আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সূর্যাস্তের নির্ভুল সময় জানা সহজ। ঘড়ির সময় সঠিক থাকলে সূর্যাস্তের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইফতার করা উচিত। এক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া সময়সূচি অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
সাধারণত আবহাওয়া অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক সময়ের সঙ্গে অন্তত ২-৩ মিনিট ‘সতর্কতামূলক’ সময় যোগ করে ইফতারের সময়সূচি তৈরি করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। জেলার কেন্দ্র থেকে দূরত্বের কারণে সূর্যাস্তের সময়ের যে সামান্য তারতম্য হতে পারে, তা সমন্বয়ের জন্যই এই বাড়তি সময়টুকু যোগ করা হয়।
আরও পড়ুন: মানুষকে ইফতার করালে যে সওয়াব
১. নিশ্চিত হওয়া জরুরি: কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ইফতার করা যাবে না। যদি আকাশ মেঘলা থাকে এবং সূর্যাস্ত স্পষ্টভাবে বোঝা না যায়, তবে নির্ভরযোগ্য ক্যালেন্ডারের সময়ের ওপর নির্ভর করতে হবে।
২. আজান বিলম্বে সমস্যা নেই: মুয়াজ্জিনের অনিচ্ছাকৃত বিলম্ব বা মাইকের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আজান দিতে সামান্য দেরি হতে পারে। যদি আপনার ঘড়ি ও নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুযায়ী ওয়াক্ত হয়ে যায়, তবে আজানের অপেক্ষা না করে ইফতার করে নেওয়াটাই সুন্নাহসম্মত।
৩. সংশয় থাকলে: যদি ঘড়ি বা ক্যালেন্ডারের সময় নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ থাকে, তবে ১-২ মিনিট অপেক্ষা করা নিরাপদ। কারণ সময়ের আগে ইফতার করলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়।
রোজার পূর্ণতা মূলত সূর্যাস্তের ওপর নির্ভরশীল। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর আজানের অপেক্ষায় অনর্থক দেরি করা সুন্নাহর পরিপন্থী। তাই সময় হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত ইফতার করাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য এবং এতেই ইবাদতের পূর্ণতা ও আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ নিহিত।