ধর্ম ডেস্ক
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালনের উদ্দেশ্যে সাহরি খাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। তবে রমজানের রাতে স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের পর ফরজ গোসল, সাহরি ও ফজরের নামাজ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ সংক্রান্ত সঠিক দিকনির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো।
রমজান মাসে ইফতারের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর সহবাস বৈধ। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘রোজার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৭)
সহবাসের কারণে গোসল ফরজ হলেও গোসলের আগেই সাহরি খাওয়া শরিয়তসম্মত। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) ও উম্মে সালামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) কখনো কখনো অপবিত্র অবস্থায় সুবহে সাদিক তথা ফজরের সময় অতিবাহিত করতেন, এরপর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন। (সহিহ বুখারি: ১৯২৬; সহিহ মুসলিম: ১১০৯)
অর্থাৎ রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্য গোসল পূর্বশর্ত নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোজার নিয়ত ও পানাহার বর্জনই মূল বিষয়।
আরও পড়ুন: রোজায় নারীদের প্রয়োজনীয় কিছু মাসয়ালা
যদি হাতে সময় কম থাকে যে, গোসল করতে গেলে সাহরির শেষ সময় পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে আগে সাহরি খেয়ে নেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো- হাত ধুয়ে নেওয়া এবং উত্তমরূপে কুলি করে মুখ পরিষ্কার করা। এ অবস্থায় অজু করে নেওয়া মোস্তাহাব। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ১/২০০; রদ্দুল মুহতার: ৩/৩৭২)
যদিও অপবিত্র অবস্থায় সাহরি খাওয়া বৈধ, তবু বিনা প্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ অপবিত্র থাকা অনুচিত। পবিত্রতা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। তাই সাহরির পর সময় থাকলে দেরি না করে দ্রুত ফরজ গোসল সম্পন্ন করা কর্তব্য। বিশেষ করে নামাজের সময় যেন পার না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভাঙলে কাফফারার নিয়ম কী
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- সময়মতো ফজরের নামাজ আদায় করা। গোসলের অলসতা বা গাফিলতির কারণে যদি ফজরের জামাত ছুটে যায় কিংবা নামাজ কাজা হয়ে যায়, তবে তা হবে গুরুতর ও কবিরা গুনাহ। সাহাবিগণ নামাজ ত্যাগ করাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে দেখতেন। (সুনানে তিরমিজি: ২৬২২)
এছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘মানুষ যদি জানত এশা ও ফজরের সালাতে কী ফজিলত রয়েছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে হাজির হতো।’ (সহিহ বুখারি: ৬১৫)
মুমিনের কর্তব্য হলো- সুন্নাহ অনুযায়ী সাহরি খাওয়া এবং ফরজ বিধান অনুযায়ী সময়মতো নামাজ আদায় করা। পবিত্রতা, সময়ানুবর্তিতা ও ইবাদতের সঠিক সমন্বয়ই রমজানের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যকে পরিপূর্ণ করে তোলে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক জ্ঞান ও যথাযথ আমলের তাওফিক দান করুন। আমিন।
(সুরা বাকারা: ১৮৭; সহিহ বুখারি: ৬১৫, ১৯২৬; সহিহ মুসলিম: ১১০৯; তিরমিজি: ২৬২২; আলমগিরি: ১/২০০; রদ্দুল মুহতার: ৩/৩৭২)