ধর্ম ডেস্ক
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
শাবান মাসের মধ্যরাত বা শবে বরাত উপলক্ষে প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব ‘হাগ আল লায়লা’ উদযাপনকে শরিয়তসম্মত ও বৈধ বলে ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফতোয়া কাউন্সিল। রোববার এক বিবৃতিতে কাউন্সিল জানায়, এই উদযাপনে শরিয়াহর কোনো বাধা নেই, বরং এটি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সহায়ক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘খালিজ টাইমস’-এর বরাতে জানা গেছে, ফতোয়া কাউন্সিল এই উৎসবকে একটি ‘সামাজিক রীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কাউন্সিলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইসলামের মূলনীতি হলো- জাগতিক রীতিনীতি বা দুনিয়াবি বিষয়ের ক্ষেত্রে মৌলিক বিধান হলো ‘অনুমোদন’ বা বৈধতা। শরিয়ত যেসব বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, সেগুলো পালন করা বৈধ ও ক্ষমাযোগ্য।
আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, রমজান শুরু হওয়ার ১৫ দিন আগে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতে ‘হাগ আল লায়লা’ পালন করা হয়। এ দিন শিশুরা বর্ণিল সাজে সেজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘আতুনা হাগ আল লায়লা’ (আমাদের এই রাতের হক দিন) বলে মিষ্টি ও উপহার সংগ্রহ করে। এর মাধ্যমে সমাজে আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: শবে বরাতে যেসব আমলকে বিদআত ভাববেন না
ফতোয়া কাউন্সিল আরও উল্লেখ করেছে যে, উপহার আদান-প্রদান এবং আনন্দ ভাগাভাগি করার মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়, যা ইসলামের মহানুভবতারই অংশ। এ বছরও শাবান মাসের মধ্যরাত উপলক্ষে দেশজুড়ে এই উৎসব পালিত হয়েছে।
সামাজিক উৎসবের পাশাপাশি শাবান মাসের মধ্যরাতের ধর্মীয় ফজিলতও তুলে ধরেছে কাউন্সিল। বিবৃতিতে জানানো হয়, সাহাবি, তাবেয়ি ও পরবর্তী যুগের বহু আলেম এই রাতের বিশেষ গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া এবং দান-সদকার মাধ্যমে এই রাতটি আত্মশুদ্ধির কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে ফতোয়া কাউন্সিল।
‘হাগ আল লায়লা’ শব্দের অর্থ হলো ‘এই রাতের হক বা পাওনা’, যা আমিরাতের শত বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব। এই দিনে শিশুরা বিশেষ পোশাকে সেজে প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি ও উপহার সংগ্রহ করে এবং রমজান আগমনের আনন্দ ভাগাভাগি করে। মূলত রমজান মাস শুরুর ১৫ দিন আগে এই আয়োজনের মাধ্যমে পবিত্র মাসকে স্বাগত জানানো এবং সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা হয়।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ায় ‘শবে বরাত’ হিসেবে পরিচিত এই রাতটি আরব বিশ্বে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। এ রাতে ইবাদতের পাশাপাশি আমিরাতে শিশুদের নিয়ে উৎসবের প্রচলন থাকলেও বাংলাদেশে প্রচলিত আছে হালুয়া-রুটি ও নফল ইবাদতের সংস্কৃতি। অনেক আলেমের মতে, এই রাত ইবাদত ও সামাজিক সম্প্রীতি উভয়েরই এক অনন্য সুযোগ।