ধর্ম ডেস্ক
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
পবিত্র কোরআনের তাফসির বা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ওপর এককভাবে নির্ভর করা শরিয়তসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি ড. নাজির আইয়াদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত ধর্মীয় জ্ঞান ও যোগ্য আলেমদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ছাড়া কেবল প্রযুক্তির মাধ্যমে কোরআনের অর্থ নির্ধারণ করা হলে প্রকৃত মর্ম বিকৃত হওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
সম্প্রতি মিসরের রাষ্ট্রীয় ফতোয়া প্রদানকারী সংস্থা ‘দারুল ইফতা আল-মিসরিয়য়্যাহ’-এর দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
বিবৃতিতে ড. নাজির আইয়াদ উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক ক্ষেত্রে তথ্য বিশ্লেষণে অনুমান ও জল্পনা-কল্পনার ওপর ভিত্তি করে উত্তর প্রদান করে, যা আল্লাহর বাণীর সঠিক মর্ম অনুধাবনের ক্ষেত্রে মারাত্মক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই কোনো প্রামাণ্য ধর্মীয় জ্ঞানের ভিত্তি ও বিশেষজ্ঞ আলেমের তত্ত্বাবধান ছাড়া এআইয়ের মাধ্যমে কোরআনের অর্থ নির্ণয় করা ইসলামি আইনের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
আরও পড়ুন: কোরআনের মর্মার্থ বোঝার সূত্র
গ্র্যান্ড মুফতি আরও বলেন, কোরআনে কারিমের তাফসির করার অধিকার কেবল তাঁদেরই রয়েছে, যাঁদের তাফসির ও ফিকহ শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান এবং এর স্বীকৃত পদ্ধতিগুলোর ওপর পূর্ণ দখল রয়েছে। যোগ্য আলেমদের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ ছাড়া কোরআনের কোনো ব্যাখ্যা করা হলে তা ঐশী গ্রন্থটির মর্যাদা, পবিত্রতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
পবিত্র কোরআনের সঠিক ও নির্ভুল অর্থ অনুধাবনের জন্য মুসলমানদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান গ্র্যান্ড মুফতি। তিনি আয়াতের মর্ম বুঝতে প্রতিষ্ঠিত ও নির্ভরযোগ্য তাফসির গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন অথবা বিশ্বস্ত আলেম ও স্বীকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
এতে কোরআন বোঝার প্রক্রিয়া হবে আরও জ্ঞানভিত্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে নির্ভরযোগ্য, পাশাপাশি পবিত্র কোরআনের সুমহান মর্যাদাও অক্ষুণ্ন থাকবে।