images

ইসলাম

উপহাস-বিদ্রূপে হারাতে পারেন পরকালের পুঁজি

ধর্ম ডেস্ক

২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০২ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে ট্রল, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করা যেন এক সাধারণ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। অথচ ইসলাম এটিকে শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, বরং নেক আমল ধ্বংসকারী ভয়াবহ গুনাহ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে উপহাসের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে এই প্রতিবেদন।

সৃষ্টির মর্যাদা

সব মানুষই আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে এবং সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে তৈরি করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি... এবং তাদের আমার বেশির ভাগ সৃষ্টির ওপর মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৭০) কাজেই আল্লাহর দেওয়া এই সম্মানহানি করা সরাসরি তাঁর আদেশের লঙ্ঘন।

উপহাস মূর্খদের কাজ

ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা কোনো সুশিক্ষিত মানুষের কাজ নয়। কোরআন মাজিদে একে মূর্খদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত মুসা (আ.)-কে যখন গোত্রের লোকেরা উপহাস করছেন কি না জিজ্ঞেস করছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই।’ (সুরা বাকারা: ৬৭)

আরও পড়ুন: উপকারের পর খোঁটা: আমল নষ্টের গোপন বিষ 

নাম বিকৃত করা ও ট্রল করার ভয়াবহতা

বন্ধুমহলে বা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় অন্যকে ব্যঙ্গাত্মক নামে ডাকা বা ট্রল করা বর্তমানে মহামারি আকার ধারণ করেছে। শরিয়তে এটি মারাত্মক গুনাহ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে উপহাস না করে... তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না; ঈমানের পর মন্দ নাম অতি নিকৃষ্ট।’ (সুরা হুজরাত: ১১)

হাদিসের দৃষ্টিতে বিষাক্ত দূষণ

উপহাসের ভয়াবহতা বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (স.) একে ‘বিষাক্ত দূষণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আম্মাজান আয়েশা (রা.) একবার অন্য একজনকে ইশারায় ‘খাটো’ করেছিলেন। তখন নবীজি (স.) বলেন, ‘তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যা সাগরের পানির সঙ্গে মেশালেও সেই পানিকে দূষিত করে ফেলত।’ (তিরমিজি: ২৫০২)

আরও পড়ুন: ১০টি কঠিন গুনাহ হয় শুধু মুখের কারণে

বিপদে বিদ্রূপের ‘বুমেরাং ইফেক্ট’

কারো বিপদ দেখে হাসি-তামাশা করলে সেই একই বিপদে নিজেকেও পড়তে হতে পারে। নবীজি (স.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘তোমার কোনো ভাইয়ের বিপদে আনন্দ প্রকাশ করো না; অন্যথায় আল্লাহ তাকে দয়া করবেন এবং তোমাকে সেই বিপদে নিক্ষিপ্ত করবেন।’ (তিরমিজি: ২৫০৬)

পরকালীন দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি

উপহাসের মাধ্যমে মূলত মানুষের ওপর জুলুম করা হয়। কেয়ামতের দিন পাওনা পরিশোধ করতে গিয়ে উপহাসকারীকে তার অর্জিত নামাজ, রোজা ও জাকাতের আমলগুলো পাওনাদারকে দিয়ে দিতে হবে। ফলে সে আমলশূন্য বা ‘দেউলিয়া’ হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। (সহিহ মুসলিম: ২৫৮১)

করণীয়

উপহাস সাময়িক আনন্দের বিষয় মনে হলেও এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি শুধু সামাজিক শান্তি নষ্ট করে না, বরং পরকালের আজীবন ইবাদতকেও মূল্যহীন করে দেয়। তাই আজ থেকেই আমাদের উচিত—কারো ত্রুটি নয়, গুণ দেখার অভ্যাস করা; ট্রল নয়, দোয়া করা এবং বিদ্রূপের বদলে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন করা। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই কেবল এই ধ্বংসাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্তি সম্ভব।