ধর্ম ডেস্ক
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
মানুষ স্বভাবতই ভালো ও কল্যাণের প্রতি আকৃষ্ট। কিন্তু নফসের তাড়নায় অনেক সময় সে হিংসার মতো মারাত্মক আত্মিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। ইসলামি শরিয়তে ‘হাসাদ’ কেবল চারিত্রিক ত্রুটি নয়; এটি মানুষের কষ্টার্জিত নেক আমল ও ঈমান ধ্বংসকারী এক নীরব ঘাতক।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই সে সফল হয়েছে, যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তা বিনষ্ট করেছে।’ (সুরা শামস: ৯-১০) তাই দুনিয়ার শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য অন্তরকে হিংসামুক্ত রাখা অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: অন্যের দোষ গোপন করার পুরস্কার
হিংসা মূলত দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা থেকে সৃষ্টি হয়। নবী কারিম (স.) বলেন, ‘তোমাদের চেয়ে নিচের অবস্থানে যারা আছে তাদের দিকে তাকাও; তাহলে আল্লাহর নেয়ামতকে তুচ্ছ মনে হবে না।’ (তিরমিজি: ২৫১৩) এই শিক্ষা উপেক্ষা করলেই মনে অসন্তুষ্টি ও হিংসা জন্ম নেয়।
রাসুলুল্লাহ (স.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘আগুন যেমন কাঠকে পুড়িয়ে দেয়, হিংসা তেমনি নেক আমল ধ্বংস করে।’ (আবু দাউদ: ৪৯০৩) এটি আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্টি সৃষ্টি করে ঈমানকেও দুর্বল করে। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘কারো অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্র হতে পারে না।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪৬০৬)
আরও পড়ুন: গিবতের কাফফারা কী
তাকদিরে সন্তুষ্ট থাকা, অন্যের প্রাপ্তিতে ‘মাশাআল্লাহ’ বলা, যার প্রতি হিংসা হয় তার জন্য দোয়া করা, সালাম দেওয়া ও প্রশংসা করা- এসব আমল হিংসামুক্ত থাকতে এবং অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে।
হিংসা মানুষকে মানসিক অশান্তি ও গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়। তাই আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এই ব্যাধি থেকে নিজেকে রক্ষা করা প্রত্যেক মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।