ধর্ম ডেস্ক
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
বর্তমান সময়ের চারদিকে বক্তা আর নেতার অভাব নেই। কিন্তু তাদের আলোচনায় প্রজ্ঞার চেয়ে সস্তা কথা, পরনিন্দা আর বিদ্রূপের আধিক্যই বেশি। দেড় হাজার বছর আগেই নবীজি (স.) সতর্ক করেছিলেন- শেষ জমানায় প্রকৃত ইলম উঠে যাবে এবং ইলমহীন লোকেরাই নেতৃত্বে আসবে। সমকালীন প্রেক্ষাপটে সেই ভবিষ্যদ্বাণী আজ রূঢ় বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) কেয়ামতের যেসব নিদর্শনের কথা বলেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো ইলমহীন বক্তার আধিক্য। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা বর্তমানে এমন একটা যুগে আছ, যখন আলেমদের সংখ্যা বেশি এবং বক্তাদের সংখ্যা কম... পরে এমন একটা যুগ আসবে যখন বক্তাদের সংখ্যা বেশি হবে এবং আলেমদের সংখ্যা কমে যাবে।’ (দ্র: সুনানে তিরমিজি: ২২৬৭; মুয়াত্তা মালেক: ৫৯৭; তাবারানি, আল-মুজামুল আওসাত: ৩৯১৪)
আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে মারাত্মক ৫ ফিতনা: নবীজির ভবিষ্যদ্বাণী ও মুমিনের করণীয়
রাসুলুল্লাহ (স.) এমন এক সময়ের কথা বলেছেন, যখন অযোগ্য ব্যক্তিরা জাতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলবে। হাদিসে এদের ‘রুওয়াইবিদা’ (অর্থাৎ: তুচ্ছ ও অযোগ্য ব্যক্তি, যে জাতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নাক গলায়) বলা হয়েছে। নবীজি (স.) বলেন, ‘অচিরেই প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির যুগ আসবে। তখন মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী গণ্য করা হবে, আমানতের খেয়ানতকারীকে আমানতদার, আমানতদারকে খেয়ানতকারী গণ্য করা হবে এবং রুওয়াইবিয়া হবে বক্তা। জিজ্ঞাসা করা হলো, রুওয়াইবিয়া কি? তিনি বলেন, নীচ প্রকৃতির লোক সে জনগণের হর্তাকর্তা হবে।’ (ইবনে মাজাহ: ৪০৩৬)
আল্লাহ তাআলা সরাসরি মানুষের অন্তর থেকে জ্ঞান ছিনিয়ে নেন না। বরং যোগ্য আলেমদের মৃত্যু ও তাঁদের শূন্যতার মাধ্যমেই সমাজে অন্ধকার নেমে আসে। হাদিসে এসেছে- ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তর থেকে ইলম উঠিয়ে নেন না, কিন্তু দ্বীনের আলেমদের উঠিয়ে নেয়ার ভয় করি। যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খদেরকেই নেতা বানিয়ে নেবে। তাদের জিজ্ঞেস করা হলে না জানলেও ফতোয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে।’ (সহিহ বুখারি: ১০০)
আরও পড়ুন: দাজ্জাল সামনে এলে এই ৪ কাজ অবশ্যই করবেন
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর এক বর্ণনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এমন এক যুগ আসবে যখন কোরআনের শব্দ মুখস্থ করার হিড়িক পড়বে কিন্তু কোরআনের সীমা বা বিধান কেউ মানবে না। আজকের দিনে অনেক বক্তা বা নেতা নামাজ ও আমলের চেয়ে নিজেদের খেয়ালখুশি এবং সস্তা জনপ্রিয়তাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। বিশেষ করে ইদানীং জনসম্মুখে অন্যকে ‘বুলিং’ বা বিদ্রূপ করাকে বীরত্ব মনে করা হচ্ছে, যা মূলত জাহিলিয়াত বা মূর্খতারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।
কেয়ামতের এই কঠিন ফিতনার যুগে আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হলো- ইসলামের মৌলিক ও ফরজ বিষয়গুলো শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা। সস্তা আবেগ আর ভাইরাল বক্তাদের পেছনে না ছুটে প্রকৃত হক্কানি আলেমদের আদর্শ অনুসরণ করা। বাহ্যিক চটকদার কথার ফুলঝুরি নয়, বরং কোরআন-সুন্নাহর সঠিক জ্ঞানই পারে সমাজকে এই নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে।