ধর্ম ডেস্ক
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের জন্য অপেক্ষাকৃত স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিয়াম সাধনা শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হিজরি সনের নিয়ম অনুযায়ী চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই তারিখ এক দিন পরিবর্তিত হতে পারে।
এবারের রমজানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- দিনের দৈর্ঘ্য গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটা কম ও সহনীয় হওয়া। উত্তর গোলার্ধে শীতের শেষ ভাগ ও বসন্তের শুরুতে রমজান হওয়ায় দিনের ব্যাপ্তি ছোট থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরব বিশ্বের অধিকাংশ দেশে প্রতিদিন রোজার সময় হবে গড়ে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা। মাসের শুরুতে সময় কিছুটা কম থাকলেও শেষের দিকে তা সামান্য বাড়বে। শীতের আমেজ ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া থাকায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা রোজাদারদের জন্য এবারের রমজান অপেক্ষাকৃত সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: রমজানের প্রস্তুতি: শাবান মাসে যে ৫ আমল মিস করা অনুচিত
রোজার সময় নির্ধারিত হয় মূলত ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে। বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলোতে সারাবছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে। তবে উত্তর বা দক্ষিণে যত দূরে যাওয়া যায়, ঋতুভেদে দিনের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য তত স্পষ্ট হয়। ২০২৬ সালে রমজান ‘বসন্ত বিষুব’-এর আগে শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম থাকবে।
মিসরের রাজধানী কায়রোতে রোজার সময় মাসের শুরুতে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট হতে পারে, যা শেষের দিকে প্রায় ১৩ ঘণ্টায় পৌঁছাবে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতেও রোজার সময় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। লেভান্ট অঞ্চল, ইরাক এবং উত্তর আফ্রিকার মরক্কো ও আলজেরিয়াতেও প্রায় একই চিত্র দেখা যাবে।
আরও পড়ুন: সৌদিতে রমজানে নামাজের সময় মাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চলে রোজার সময় আরব বিশ্বের তুলনায় কিছুটা বেশি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোজার শুরুতে সময় হবে প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা, যা মার্চের শেষ দিকে ১৩ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বেশি হলেও ২০২৬ সালে তা আগের বছরগুলোর মতো চরম দীর্ঘ (১৬–১৮ ঘণ্টা) হবে না। উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মতো উচ্চ অক্ষাংশের এলাকাতেও এবার রোজার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের রমজান বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমানের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ সময় নিয়ে আসবে। দীর্ঘ সময় ও প্রচণ্ড গরমের ক্লান্তি ছাড়াই রোজাদাররা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকতে পারবেন—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: গালফ নিউজ