ধর্ম ডেস্ক
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান আমাদের একদম দ্বারপ্রান্তে। হিজরি ক্যালেন্ডারের অষ্টম মাস ‘শাবান’ মূলত রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। বিশ্বনবী (স.) এই মাসকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন এবং রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে বিশেষ কিছু আমল করতেন। হাদিসে এই মাসকে ‘রমজানের প্রশিক্ষণের মাস’ হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হজরত উসামা বিন জায়েদ (রা.) বলেন, ‘আমি আরজ করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! শাবান মাসে আপনাকে যত রোজা রাখতে দেখি, অন্য কোনো মাসে এত রোজা রাখতে দেখি না। তিনি বললেন- এটি এমন একটি মাস, যা রজব ও রমজানের মাঝখানে হওয়ায় মানুষ একে গুরুত্ব দেয় না। অথচ এই মাসেই আল্লাহর কাছে বান্দার আমলনামা পেশ করা হয়। আর আমি চাই, রোজা রাখা অবস্থায় যেন আমার আমলনামা আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়।’ (সুনানে নাসায়ি: ২৩৫৭)
শাবান মাসে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি আমল নিচে তুলে ধরা হলো-
শাবান মাসে নবীজি (স.)-এর প্রধান আমল ছিল নফল রোজা। আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন- ‘আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে রমজান ছাড়া অন্যকোনো মাসে শাবানের চেয়ে বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।’ (সহিহ বুখারি: ১৯৬৯)
সতর্কতা: রমজান শুরু হওয়ার ঠিক ১-২ দিন আগে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকা উচিত, যাতে ফরজ রোজার জন্য শারীরিক শক্তি ও উদ্দীপনা অটুট থাকে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন রমজানের একদিন বা দুদিন আগে রোজা না রাখে।’ (সহিহ বুখারি: ১৯১৪)
আরও পড়ুন: শাবান মাসে যে ৩ রোজা বেশি ফজিলতপূর্ণ
যাদের ওপর গত রমজানের রোজা কাজা রয়ে গেছে, তা আদায় করার এটাই শেষ সুযোগ। বিশেষ করে মা-বোনদের উচিত এই মাসেই বিগত বছরের কাজা রোজাগুলো দ্রুত শেষ করা। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন- ‘আমার ওপর গত রমজানের যে কাজা রোজা বাকি ছিল, তা আমি (পরবর্তী) শাবান মাস ছাড়া আদায় করতে পারতাম না।’ (সহিহ বুখারি: ১৯৫০)
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত (১৫ শাবানের রাত) অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। নবীজি (স.) বলেছেন- ‘অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫; ইবনে মাজাহ: ১৩৯০)। এই রাতে লম্বা সময় নফল নামাজ, তওবা ও জিকির করা উত্তম।
আরও পড়ুন: রমজানের আগে মারা গেলেও রোজার সওয়াব পাবেন যারা
সালাফরা (পূর্বসূরিরা) শাবান মাসকে ‘কোরআন পাঠকারীদের মাস’ বলতেন। রমজানের দীর্ঘ সময় কোরআন পড়ার ক্লান্তি দূর করতে শাবান থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, শাবান মাস শুরু হলে সাহাবায়ে কেরাম অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং মালের জাকাত আদায় করতেন যাতে দরিদ্ররা রমজানের প্রস্তুতি নিতে পারে। (লাতায়েফুল মাআরিফ)
রজব ও শাবান মাস আসার পর থেকেই নবীজি (স.) এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়তেন। আমাদেরও উচিত আল্লাহর কাছে রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর তাওফিক চাওয়া- উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (মুসনাদে আহমদ: ২৩৪৬; শুআবুল ঈমান: ৩৫৩৪)
শাবান মাস হলো ইবাদতের বীজ বপনের মাস। কেউ যদি এই মাসে নেক আমল ও তওবার মাধ্যমে নিজের অন্তরকে প্রস্তুত না করে, তাহলে প্রস্তুতি না নেওয়ার কারণে রমজানের পূর্ণ বরকত থেকে সে বঞ্চিত হতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের শাবান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে রমজানের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।