ধর্ম ডেস্ক
২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
দুনিয়ার সব কাজ ও বিচার-ফয়সালার ভিত্তি হলো সত্যবাদিতা। আদালতে সাক্ষীর হলফনামা- ‘যা বলিব সত্য বলিব’ প্রমাণ করে যে, সত্যই ন্যায়বিচারের প্রাণ। সত্যবাদিতা বা ‘সিদক’ কেবল নৈতিক গুণ নয়, এটি জীবনের সুখ ও শান্তির আধার। কোরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যমতে, সত্যবাদিতা মানুষকে জান্নাতের পথে এবং মিথ্যা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সত্যবাদীদের উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। এর প্রমাণস্বরূপ কয়েকটি আয়াত নিচে তুলে ধরা হলো-
আল্লাহর নির্দেশ: আল্লাহ মুমিনদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।’ (সুরা তওবা: ১১৯)
ক্ষমা ও প্রতিদান: সত্যবাদীদের পুরস্কার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদিনী নারী... এদের জন্য মহান আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান রেখেছেন।’ (সুরা আহজাব: ৩৫)
বিজয়ের ঘোষণা: সত্যের আগমনে মিথ্যা বিলীন হতে বাধ্য। কোরআনের ঘোষণা- ‘বলুন! সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলীন হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলীন হওয়ারই ছিল।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৮১)
আরও পড়ুন: গিবতের কাফফারা কী?
হাদিস শরিফে সত্যবাদিতার বহুমুখী উপকারিতা ও মিথ্যার ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে। যেমন-
জান্নাতের পথ: রাসুল (স.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই সত্য পুণ্যের পথ দেখায় আর পুণ্য জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
প্রশান্তির উৎস: সত্য অন্তরে প্রশান্তি আনে। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘সত্য প্রশান্তির কারণ এবং মিথ্যা সন্দেহের কারণ।’ (তিরমিজি)
ব্যবসায়ে বরকত: সততা অর্থনীতির মূল ভিত্তি। হাদিসে বলা হয়েছে, ক্রেতা-বিক্রেতা সত্য বললে ও দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করলে, তাদের কেনাবেচায় বরকত দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি)
শহীদের মর্যাদা: সত্যের সংকল্প মানুষকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করে। রাসুল (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সত্য অন্তরে শাহাদত প্রার্থনা করবে, মৃত্যু বিছানায় হলেও আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম)
আরও পড়ুন: আল্লাহ সহজ-সরল মানুষের জন্য যা রেখেছেন
সত্যের বিপরীত মেরুতে থাকা মিথ্যাই সব পাপের মূল। এর ভয়াবহতা সম্পর্কে বলা হয়েছে-
মুনাফিকির লক্ষণ: রাসুল (স.) বলেন, ‘মুনাফিকের তিনটি লক্ষণ: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে।’ (সহিহ বুখারি)
অভিশপ্ত কাজ: মিথ্যুক আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ।’ (সুরা আলে ইমরান: ৬১)
ঘৃণিত চরিত্র: মা আয়েশা (রা.) জানান, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নিকট মিথ্যার চেয়ে অধিক ঘৃণিত চরিত্র আর কিছুই ছিল না। (তিরমিজি)
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যাচাইহীন তথ্য বা ‘ফেইক নিউজ’ ছড়িয়ে পড়া মহামারি আকার ধারণ করেছে। রাসুল (স.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে, যাচাই না করেই তা বলে বেড়ায়।’ (সহিহ মুসলিম)। তাই অনলাইনে কোনো কিছু শেয়ার করার আগে সত্যতা যাচাই করা ঈমানের দাবি।
আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সত্যবাদিতা মুমিনের ভূষণ। এটি মানুষকে সম্মানিত করে, রুজিতে বরকত আনে এবং পরকালে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়। অন্যদিকে মিথ্যা মানুষকে মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। তাই ব্যক্তি ও সমাজজীবনে মিথ্যার কলুষতা বর্জন করে সত্যের চর্চা করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।