images

ইসলাম

এই উম্মতের প্রতি ইবরাহিম (আ.)-এর সালাম ও বিশেষ তোহফা

ধর্ম ডেস্ক

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

ইসলামের ইতিহাসে লাইলাতুল মেরাজ এক অনন্য, বিস্ময়কর ও অলৌকিক অধ্যায়। এই মহিমান্বিত সফরে রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (স.) কেবল আল্লাহ তাআলার বিশেষ নৈকট্যই লাভ করেননি, বরং ঊর্ধ্বজগতে পূর্ববর্তী নবীগণের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে উম্মতের জন্য বহু মূল্যবান শিক্ষা, উপহার ও পরকালীন পাথেয় সংগ্রহ করেছেন। বিশেষ করে সপ্তম আসমানে ‘খলিলুল্লাহ’ হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং উম্মতে মুহাম্মদির জন্য তাঁর শেখানো বিশেষ দোয়াটি মেরাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত।

বায়তুল মাকদিস থেকে ঊর্ধ্বজগত

মেরাজের সেই পুণ্যময় রাতে বায়তুল মাকদিসে সকল নবী ও রাসুলের ইমামতি করার পর শুরু হয় প্রিয়নবী (স.)-এর ঊর্ধ্বজগতের সফর। ওহির বাহক ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে বোরাকে চড়ে তিনি অগ্রসর হন। 

নবীগণের অভ্যর্থনা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন

প্রথম আসমানে তাঁর সাক্ষাৎ হয় মানবজাতির পিতা হজরত আদম (আ.)-এর সঙ্গে। নবীজি (স.) বর্ণনা করেন, আদম (আ.) তাঁকে দেখে পরম মমতায় অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, ‘মারহাবা হে নেক সন্তান! মারহাবা হে নেক নবী!’ সফরের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় আসমানে তাঁর সাক্ষাৎ হয় দুই খালাত ভাই হজরত ঈসা (আ.) ও হজরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর সঙ্গে। এরপর তৃতীয় আসমানে হজরত ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আসমানে হজরত ইদরিস (আ.), পঞ্চম আসমানে হজরত হারুন (আ.) এবং ষষ্ঠ আসমানে হজরত মুসা (আ.)-এর সঙ্গে নবীজির মুলাকাত হয়। প্রতিটি আসমানেই নবীগণ তাঁকে সাদর সম্ভাষণ জানান এবং নবুয়তের ধারাকে সম্মান প্রদর্শন করে দোয়া করেন।

আরও পড়ুন: কোরআনে বর্ণিত নবী-রাসুলদের দোয়া

সপ্তম আকাশে ইবরাহিম (আ.)-এর বিশেষ ওসিয়ত

অবশেষে সপ্তম আসমানে নবীজি (স.) সাক্ষাৎ পান মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর। তিনি তখন ‘বায়তুল মামুর’-এ হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। প্রিয়নবী (স.)-কে দেখে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এক বিশেষ বার্তা ও আমল নবীজির কাছে পৌঁছে দেন।

হজরত ইবরাহিম (আ.) বলেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম বলবেন। আর তাদেরকে অবগত করবেন যে, জান্নাতের মাটি অত্যন্ত পবিত্র, এর পানি সুমিষ্ট এবং জান্নাত হচ্ছে একটি বিশাল সমতল ভূমি। আর জান্নাতের বৃক্ষ রোপণ হয় এই জিকিরটির মাধ্যমে- سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله، الله أكبر ولا حول ولا قوة إلا بالله العلى العظيم (উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা-হাওলা ওয়া লা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম)।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৪৬২)

আরও পড়ুন: কোরআনের যে দোয়া রাতে বিশেষভাবে পড়তে বলেছেন নবীজি

আমলের গুরুত্ব ও শিক্ষা

মেরাজের রাতে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর উচ্চারিত এই দোয়া এই উম্মতের জন্য জান্নাত আবাদের এক অনন্য দিকনির্দেশনা ও তোহফা। অল্প আমলে বিশাল নেকি অর্জনের এই সহজ সুযোগ গ্রহণ করাই হোক আমাদের মেরাজের শিক্ষা।