ধর্ম ডেস্ক
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০৯ পিএম
রোজা ইসলামে অন্যতম মহান ইবাদত। রমজান মাসে ফরজ রোজার পাশাপাশি সারাবছর ধরেই নফল রোজা পালনের মাধ্যমে বান্দা অতিরিক্ত সওয়াব ও আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য অর্জন করতে পারে। বিশেষ করে শীতের দিনে রোজা রাখা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এই মৌসুমকে হাদিসে ‘মুমিনের বসন্তকাল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘মানুষের প্রতিটি নেক কাজ তার জন্যই; কিন্তু রোজা শুধু আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। রোজা ঢালস্বরূপ।’ (সহিহ বুখারি: ১৯০৪)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে- ‘রোজাদারের জন্য দুইটি আনন্দঘন মুহূর্ত রয়েছে। একটি হলো ইফতারের সময় এবং অন্যটি হলো (কেয়ামতের দিবসে) নিজ প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।’ (বুখারি: ৭৪৯২; তিরমিজি: ৭৬৬)
নবী কারিম (স.) সাপ্তাহিকভাবে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (স.) সোম ও বৃহস্পতিবার দিন রোজা রাখাকে প্রাধান্য দিতেন।’ (তিরমিজি; সহিহুত তারগিব: ১০২৭)
আরও পড়ুন: যেসব দিনে নফল রোজা রাখতেন নবীজি
এই দুটি দিনের একটি বিশেষ তাৎপর্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘সোম ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে বান্দার আমল পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, রোজা থাকা অবস্থায় যেন আমার আমলনামা আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়।’ (তিরমিজি: ৭৪৭; সহিহুত তারগিব: ১০২৭)
শীতে দিন ছোট হওয়ায় এবং আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় রোজা রাখা অধিক সহজ। এজন্য সালাফে সালেহিন এই মৌসুমকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। শীতকালকে মুমিনের বসন্তকাল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন প্রিয় নবীজি। (মুসনাদে আহমদ: ১১৬৫৬)
তাই মুমিনের জন্য শীতের সোম ও বৃহস্পতিবার নেকি অর্জনের একটি বড় সুযোগ। আরেক হাদিসে রাসুল (স.) বলেন- ‘শীতল গনিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা পালন করা।’ (তিরমিজি: ৭৯৫)
রোজার মহান ফজিলত প্রসঙ্গে আরও বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি একদিন আল্লাহর পথে রোজা রাখে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে সত্তর বছরের পথের দূরত্ব তৈরি করে দেন।’ (সহিহ বুখারি: ২৮৪০)
আরও পড়ুন: শীতকালে সহজে পালনযোগ্য ৬টি মূল্যবান আমল
আইয়ামে বিজ (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ): নবীজি (স.) প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার উৎসাহ দিয়েছেন। (তিরমিজি: ৭৬১)
সোমবারের বিশেষ ফজিলত: নবীজি (স.) বলেন- ‘এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে এবং এই দিনে আমাকে নবুয়ত প্রদান করা হয়েছে (অথবা এই দিনে আমার উপর ওহি নাযিল শুরু হয়েছে)।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
মোটকথা, শীতকাল ইবাদতের জন্য অত্যন্ত অনুকূল সময়। রোজা, তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফল ইবাদতের মাধ্যমে একজন মুমিন সহজেই আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করতে পারেন। বিশেষ করে সোম ও বৃহস্পতিবার এবং আইয়ামে বিজের সুন্নত রোজা শীতকালে আরও সহজভাবে পালন করা সম্ভব। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতগুলো অনুসরণ করে মুমিন ব্যক্তি নিজের ঈমান, চরিত্র ও আখেরাতের প্রস্তুতি সুদৃঢ় করতে পারেন। শীতের এই ‘শীতল গনিমত’ যেন আমাদের সবার জন্য হয় আধ্যাত্মিক বসন্তের সূচনা।