ধর্ম ডেস্ক
২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
মুসলিম সমাজে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বাক্যটি মহানবী (স.)-এর নামের সঙ্গে স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে অনেক মুসলিম এখনও বিভ্রান্ত যে এটি কি শুধু সম্মানসূচক বাক্য নাকি পূর্ণাঙ্গ দরুদ? কোরআন, হাদিস এবং ইসলামি স্কলারদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিষয়টি এখানে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হলো।
হ্যাঁ, এটি দরুদ। দরুদ হলো নবীজির জন্য আল্লাহর রহমত ও শান্তি কামনা। ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি’ অর্থ আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, ‘ওয়া সাল্লাম’ অর্থ শান্তি বর্ষণ করুন। সুতরাং, এটি দরুদ ও সালামের সংমিশ্রণ, যা কোরআনের নির্দেশকে (সুরা আহজাব: ৫৬) পূর্ণ করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠান, হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠাতে থাকো এবং উত্তম অভিবাদন (সালাম) পেশ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)
রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে আমার ওপর একবার দরুদ পড়বে আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করবেন, তার ১০টি গুনাহ ক্ষমা করা হবে এবং ১০টি দরজা বুলন্দ হবে।’ (নাসায়ি: ১/১৪৫; মুসনাদে আহমদ: ৩/১০২; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ২/৪৩)
এছাড়া তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর বেশি দরুদ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন সে আমার অধিকতর নিকটবর্তী হবে।’ (তিরমিজি: ৪৮৪)
আরও পড়ুন: সকাল- বিকেল ১০ বার দরুদ পড়লে যা পাবেন
আরও পড়ুন: দরুদের কারণে যেভাবে গায়েবি সাহায্য আসে
তবে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এবং দরুদে ইবরাহিম দরুদের সর্বাধিক প্রচলিত রূপ। নবীজির নাম শুনলে সাধারণত ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পড়া হয়। সলফে সালেহিনরা এই দরুদ পড়তেন। অবশ্য নবীজির নাম শুনে যেকোনো দরুদ পড়া যাবে। একই মজলিসে বারবার নবীজির নাম নিলে, প্রথমবার দরুদ পড়া ওয়াজিব, পরে মোস্তাহাব। যেকোনো সময় ও স্থানে দরুদ পড়া যায়। হাঁটতে হাঁটতে বা যেকোনো অবস্থায় দরুদ পাঠ করা সম্ভব।
অতএব, ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ একটি পূর্ণাঙ্গ দরুদ। নিয়মিত পড়লে আল্লাহর রহমত, গুনাহ মাফ এবং নবীজির নিকটবর্তী হওয়ার ফজিলত লাভ হয়। আল্লাহ আমাদের নবীজির নাম নেওয়ার সময় এবং যেকোনো সময় বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার তাওফিক দিন। আমিন।