ধর্ম ডেস্ক
১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:১২ পিএম
মানুষ স্বভাবতই ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিদিনের জীবনে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অসংখ্য গুনাহ সংঘটিত হয়। তবে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য ক্ষমার দুয়ার সর্বদা উন্মুক্ত রেখেছেন। শুধু প্রয়োজন সঠিক নিয়মে ও খাঁটি অন্তরে ক্ষমা প্রার্থনা করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, এরপর তাঁর দিকে ফিরে আসো।’ (সুরা হুদ: ৩)
ইস্তেগফার হলো আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের জন্য কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বড় মাধ্যম। প্রিয়নবী (স.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার তাওবা ও ইস্তেগফার করতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ৭০ বারেরও বেশি ইস্তেগফার ও তাওবা করে থাকি।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩০৭)
আরও পড়ুন: ৭টি ছোট ইস্তেগফার: কোরআন-হাদিসে ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়াগুলো
ওলামায়ে কেরাম কোরআন-হাদিসের আলোকে গুনাহ মাফের জন্য কয়েকটি স্পষ্ট শর্ত বর্ণনা করেছেন। এগুলো পালন করলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহর ক্ষমা লাভ সহজ হবে। সেগুলো হলো-
১. গুনাহ ত্যাগ করা
ক্ষমা পেতে সর্বপ্রথম গুনাহের কাজটি ছাড়তে হবে। গুনাহ চলমান অবস্থায় তাওবা কবুল হয় না।
২. গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া
কৃত গুনাহের জন্য অন্তরে অনুশোচনা ও লজ্জা অনুভব করতে হবে। এটি তাওবার প্রাণ।
৩. ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প
ওই গুনাহ ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে। শুধু মুখে নয়, মনে মনেই এই সংকল্প থাকতে হবে।
৪. বান্দার হক আদায় করা
গুনাহটি যদি কোনো মানুষের হকের সাথে জড়িত হয় (যেমন: অর্থ-সম্পদ, সম্মানহানি), তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হক আদায় করে নিতে হবে বা তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।
উল্লেখিত চারটি বিষয় তাওবা-ইস্তেগফার আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য ও কবুল হওয়ার শর্ত।
আরও পড়ুন: যে জিকিরগুলো আপনাকে শক্তি যোগাবে
রাসুলুল্লাহ (স.) প্রতিদিন অসংখ্যবার এই সংক্ষিপ্ত ইস্তেগফার পড়তেন- أَسْتَغْفِرُ اللهَ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ (অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি)। আরেকটি মাকবুল ইস্তেগফার হলো- أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুমু ওয়া আতূবু ইলাইহি।’ অর্থ: আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আমি তাঁর দিকেই ফিরে আসি।’ (আবু দাউদ: ১৫১৭; তিরমিজি: ৩৫৭৭)
এ ছাড়া তিনি সাইয়িদুল ইস্তেগফারও পড়তেন, যা শ্রেষ্ঠ ইস্তেগফার হিসেবে পরিচিত।
মনে রাখবেন, ক্ষমা চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করেন, কারণ তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা নিসা: ১০৬) আসুন আমরা নিয়মিত তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে নিজেদের গুনাহ মাফ করানোর চেষ্টা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফারের তাওফিক দান করুন। আমিন।