ধর্ম ডেস্ক
১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩২ পিএম
সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়িন ছিলেন সুন্নতের অটল অনুসারী। তাঁদের জীবন ছিল নববী আদর্শের জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি। তাঁরা ধর্মে নতুন সংযোজন (বিদআত) কখনোই মেনে নেননি; বরং সর্বদা তা থেকে দূরে থেকেছেন এবং অন্যদেরও সতর্ক করেছেন। সালফে সালেহিন বিদআতের ব্যাপারে এতটাই কঠোর ছিলেন যে, এর পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোরও সুযোগ দিতেন না।
হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় রাসুলুল্লাহ (স.) একটি গাছের নিচে বসে সাহাবিদের বাইয়াত নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে দেখা গেল, লোকেরা সেই গাছটিকে সম্মান করতে শুরু করেছে। এ খবর পেয়ে আমিরুল মুমিনিন ওমর (রা.) গাছটি কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। (মাজালিসুল আবরার, পৃ. ১২১)
এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সাহাবায়ে কেরাম বিদআতের সামান্য ছোঁয়াও সহ্য করতেন না।
তাবেয়ি মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘আমি ইবনে ওমর (রা.)-এর সঙ্গে এক মসজিদে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি জোহর বা আছরের নামাজের জন্য ডাকাডাকি শুরু করল। ইবনে ওমর (রা.) বললেন, ‘এই মসজিদ থেকে বের হয়ে চলো; এখানে বিদআত চলছে।’ (আবু দাউদ: ৪৫৩)
সাহাবিরা এমনকি মসজিদ থেকেও বিদআতের কারণে সরে যেতেন, যেন তাঁদের উপস্থিতি কোনো বিদআতের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।
আরও পড়ুন: শয়তানের শেষ অস্ত্র বিদআত
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘শেষ যুগে যে ব্যক্তি নিজের আমল সুন্নত ও শরিয়ত অনুযায়ী পূর্ণ করবে, তাকে পঞ্চাশজন আমলকারীর সমান সওয়াব দেওয়া হবে।’ সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমাদের মধ্যকার পঞ্চাশজনের মতো?’ নবীজি (স.) বললেন, ‘না, তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশজনের সমতুল্য।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মেশকাত: পৃ. ৪৩৭)
আরেক হাদিসে নবীজি (স.) বলেন, ‘তোমরা এমন এক যুগে আছো, যখন দশভাগের একভাগও ছেড়ে দিলে ধ্বংস হবে; কিন্তু তোমাদের পরের যুগে এমন সময় আসবে, যখন কেউ দশভাগের একভাগও পালন করলে নাজাত পাবে।’ (তিরমিজি, মেশকাত: ৩১)
এ হাদিসগুলো প্রমাণ করে, শেষ যুগে সুন্নতের ওপর টিকে থাকা কঠিন হবে, তবে যারা টিকবে, তাদের জন্য থাকবে অগণিত পুরস্কার।
আরও পড়ুন: বিদআতে জড়িতরা কেয়ামতের দিন লাঞ্ছিত হবেন
হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের সময় ওমর (রা.) বলেন, ‘আমি জানি, তুমি একটি পাথর মাত্র। তোমার দ্বারা না কোনো উপকার হয়, না কোনো অপকার। যদি আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে তোমাকে চুমু দিতে না দেখতাম, তাহলে আমি কখনো তোমাকে চুমু দিতাম না।’ ( বুখারি, মুসলিম; আল-মুনজিরি: পৃ. ৬৭)
এ বক্তব্যের মাধ্যমে ওমর (রা.) উম্মতকে শিক্ষা দেন—ইবাদত হতে হবে শুধুমাত্র নববী অনুসরণের ভিত্তিতে, আবেগ বা অন্ধ অনুকরণে নয়।
ইমাম সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘ইবলিসের কাছে নাফরমানির চেয়ে বিদআত বেশি প্রিয়। কারণ, নাফরমানি থেকে তাওবার সম্ভাবনা থাকে; কিন্তু বিদআতকারী তাওবা করে না, কারণ সে মনে করে, সে ভালো কাজই করছে।’ (শাতিবি, আল-ই‘তিসাম: ১/১১; ইমাম সুয়ুতি, আল-আমরু বিল ইত্তিবা, পৃ. ১৯)
সাহাবা, তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়িনের জীবনাদর্শ ছিল বিদআত থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা এবং অন্যকেও দূরে রাখা। আজ আমাদের দায়িত্বও একই সুন্নতের অনুসারী হওয়া ও বিদআতের মোকাবিলায় দৃঢ় থাকা। হে আল্লাহ! আমাদেরকে সুন্নতের অনুসারী বানাও এবং শিরক-বিদআত ও গোমরাহি থেকে রক্ষা করো। আমিন।