ধর্ম ডেস্ক
১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৩৮ পিএম
কাউসার হলো জান্নাতের একটি নহর বা ঝরনা, যা মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিব মুহাম্মদ (স.)-কে দান করার ওয়াদা করেছেন। এই ঝরনার পানি মিশকের মতো সুগন্ধময়, এর দুই পাড় মুক্তার গম্বুজে সুশোভিত। কেয়ামতের দিন হাউজে কাউসারের পানি পান করার সুযোগ হবে প্রতিটি মুমিনের জন্য মহাসৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু চরম দুর্ভাগ্য তাদেরই, যারা এই পানি থেকে বঞ্চিত হবে। জেনে নিন কারা পাবেন এই সম্মান আর কারা হবে বঞ্চিত।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, 'আমি জান্নাতে ভ্রমণ করছিলাম, এমন সময় এক ঝরনার কাছে এলে দেখি যে তার দুই ধারে ফাঁপা মুক্তার গম্বুজ রয়েছে। আমি বললাম, হে জিবরিল! এটা কী? তিনি বলেন, এটা ওই কাউসার, যা আপনার প্রতিপালক আপনাকে দান করেছেন।’ (সহিহ বুখারি: ৬৫৮১)
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (স.) বলেছেন, 'আমার হাউজের প্রশস্ততা এক মাসের পথের সমান। তার পানি দুধের চেয়ে সাদা, তার ঘ্রাণ মিশকের চেয়ে বেশি সুগন্ধযুক্ত এবং তার পানপাত্রগুলো হবে আকাশের তারকার মতো অধিক। তা থেকে যে পান করবে সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না।' (সহিহ বুখারি: ৬৫৭৯)
আরও পড়ুন: বিদআতি লোককে আশ্রয়দাতার ব্যাপারে যা বলেছেন নবীজি (স.)
পবিত্র কোরআনে ‘কাউসার’ নামে স্বতন্ত্র সুরা রয়েছে। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, ‘একদা আমরা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর মজলিশে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ তাঁর ওপর অচৈতন্য ভাব চেপে বসল। অতঃপর তিনি মুচকি হেসে মাথা তুললেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার হাসির কারণ কী? তিনি বলেন, এই মাত্র আমার ওপর একটি সুরা অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি পাঠ করলেন, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ইন্না আতাইনাকাল কাউসার...’ অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা কি জানো ‘কাউসার’ কী? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বলেন, এটি একটি ঝরনা। আমার মহান প্রতিপালক আমাকে তা দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। এর মধ্যে অশেষ কল্যাণ রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম: ৭৮০)
আরও পড়ুন: আমল কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক না হলে বাতিল
সামুরা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক নবীরই একটি হাউজ আছে। কার হাউজে কত বেশি পিপাসার্তের আগমন হবে এই নিয়ে তাঁরা পরস্পর গৌরব করবেন। আমি আশা করি আমার হাউজেই সর্বাধিক সংখ্যক লোকের আগমন ঘটবে।’ (সুনান তিরমিজি: ২৪৪৬)
বিদআতকারীরা: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের আগে হাউজের কাছে গিয়ে হাজির হব। আর (ওই সময়) তোমাদের কতগুলো লোককে অবশ্যই আমার সামনে ওঠানো হবে। আবার আমার সামনে থেকে তাদের আলাদা করে নেওয়া হবে। তখন আমি বলব, হে প্রতিপালক! এরা তো আমার উম্মত। তখন বলা হবে, তোমার পরে এরা কী নতুন কাজ করেছে তা তো তুমি জানো না।’ (সহিহ বুখারি: ৬৫৭৬)
আরও পড়ুন: ১২ শ্রেণির মানুষকে 'উম্মত নয়' বলেছেন নবীজি
দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়কে বিদআত বলে। নবীজি বলেছেন, ‘সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শ। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো, (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত বিষয়। (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত সবকিছুই বিদআত। প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা, আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।’ (মুসলিম: ১৫৩৫; নাসায়ি: ১৫৬০)
যারা দ্বীনের নামে নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করে, নিজেদের পার্থিব স্বার্থে সেগুলো দ্বীন বলে চালিয়ে দেয়, ইবাদত মনে করে, মানুষকে বিদআত করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে—তারাই হাউজে কাউসারের পানি থেকে বঞ্চিত হবে।
আমাদের উচিত বিদআত ও শিরক থেকে মুক্ত থাকা। আবেগের বশবর্তী হয়ে দ্বীনের নামে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা আমাদের ইহকাল ও পরকালে ব্যর্থ করে দেয়। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে বিদআত ও শিরক থেকে হিফাজত করুন এবং হাউজে কাউসারে আমাদেরকে প্রিয় নবী (স.)-এর সাক্ষাত ও পানি পান করার তাওফিক দান করুন। আমিন।