ধর্ম ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৬ পিএম
সালাম মুসলিম সমাজের পরিচয়, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক ভালোবাসার অনন্য নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সালামের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন- ‘যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করবে, তখন নিজেদের লোকদেরকে সালাম করবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া।’ (সুরা নুর: ৬১)
সালামের প্রতিউত্তর সম্পর্কেও কোরআনে বলা হয়েছে- ‘যখন তোমাদেরকে সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তমভাবে জবাব দাও অথবা কমপক্ষে অনুরূপভাবে দাও।’ (সুরা নিসা: ৮৬)
আমাদের সমাজে সাধারণত ছোটরা বড়দের সালাম দেয়। কিন্তু ছোটদেরকে আগে সালাম দেওয়া—এ সুন্নত অনেকটা বিস্মৃত হয়ে গেছে। অথচ রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে বড় হয়েও শিশুদের সালাম দিতেন। এটি ছিল তাঁর অসাধারণ নম্রতা, স্নেহশীলতা ও ভালোবাসার প্রকাশ।
আরও পড়ুন: সালাম দিলে কত নেকি লাভ হয়
হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন- ‘একদিন আমি কিছু শিশুর সাথে খেলছিলাম। হঠাৎ রাসুলুল্লাহ (স.) এসে আমাদের সালাম দিলেন এবং আমাদের খেলা দেখতে থাকলেন।’ (মুসলিম: ২১৬৮)
আরেক বর্ণনায় তিনি বলেন- ‘রাসুলুল্লাহ (স.) একদল খেলাধুলারত শিশুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সালাম দিয়েছেন।’ (মুসনাদে আহমদ: ১৩০২২)
আরও পড়ুন: মাথা নিচু করে পা ছুঁয়ে সালাম, ইসলাম কী বলে
শিশুদের সালাম দেওয়ার মধ্যে নিহিত রয়েছে গভীর শিক্ষা—
১. শিশুদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হয়।
২. ইসলামি আদব-কায়দা শেখার সুযোগ তৈরি হয়।
৩. বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও অনুরাগ বাড়ে।
৪. সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক ভালোবাসা দৃঢ় হয়।
শিশুদের সালাম দেওয়া এমন একটি সুন্দর সুন্নত, যা সমাজে স্নেহ, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এ সুন্নতকে পুনরুজ্জীবিত করা আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে জীবিত করল, সে আমাকেই ভালবাসল, আর যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসল সে তো জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে।’ (তিরমিজি: ২৬৭৮)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই সুন্নত পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।