images

ইসলাম

স্ত্রীর সাক্ষ্যই প্রমাণ করে আপনি কেমন মুসলিম

ধর্ম ডেস্ক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৭ পিএম

ইসলামে দাম্পত্য সম্পর্ক একটি পবিত্র আমানত। একজন মুসলিম স্বামীর ঈমানি মানদণ্ড যাচাইয়ের অন্যতম মানদণ্ড হলো তার স্ত্রীর সাক্ষ্য। ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজের পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি তোমাদের চেয়ে আমার পরিবারের কাছে অধিক উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭)

কোরআন-হাদিসের আলোকে উত্তম স্বামীর গুণাবলী

১. স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের সাথে উত্তমরূপে জীবনযাপন করো।’ (সুরা নিসা: ১৯) 
রাসুল (স.) বলেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে স্ত্রীদের প্রতি সর্বোত্তম আচরণকারী।’ (তিরমিজি: ৩৮৯৫)

আরও পড়ুন: নেককার স্ত্রীকে 'পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ' কেন বলেছেন নবীজি

২. মেজাজ নিয়ন্ত্রণ ও সুন্দরভাবে বুঝানো

স্ত্রীর কোনো ত্রুটি হলে রাগ না করে কোমলভাবে বুঝানো উচিত। এটাই নবীজির আদর্শ। নবীজি কখনও মেজাজ খারাপ করতেন না। রাসুল (স.) বলেন, ‘আল্লাহ কোমলতা পছন্দ করেন। আল্লাহ কোমলতার বদলা হিসেবে যা দেন, কঠোরতার কারণে তা দেন না।’ (বুখারি: ২৫৯৩)

৩. মারধর ও জবরদস্তি পরিহার

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (স.) কখনো তাঁর স্ত্রী বা কোনো দাসকে প্রহার করেননি।’ (সহিহ মুসলিম: ২৩২৮) তিনি আরও বলেন, ‘যারা স্ত্রীদের প্রহার করে তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম নয়।’ (আবু দাউদ: ২১৪৬)

৪. স্ত্রীর আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ

স্ত্রীর পরিবারের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা দাম্পত্য জীবনে সম্প্রীতি ও বিশ্বাস বাড়ায়। রাসুল (স.) বলেন, জেনে রেখো! তোমাদের যেরূপ অধিকার রয়েছে তোমাদের স্ত্রীদের ওপর, তোমাদের স্ত্রীদেরও তদ্রূপ অধিকার রয়েছে তোমাদের ওপর (কাজেই উভয়ের প্রতি উভয়ের অধিকার আদায় করা কর্তব্য)। (তিরমিজি: ১১৬৩)

আরও পড়ুন: স্বামী যেমন হওয়া উচিত

৫. অকারণ সন্দেহ পরিহার

অমূলক সন্দেহ সংসারে বিষ ঢালে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, অধিকাংশ ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয় কিছু ধারণা পাপ।’ (সুরা হুজরাত: ১২)

৬. স্ত্রীর সাথে পরামর্শ ও মূল্যায়ন

মিউচুয়াল রেসপেক্টের অন্যতম নিদর্শন হলো পরামর্শ। আল্লাহ বলেন- ‘আর (জরুরি) বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করো।’ (সুরা আলে-ইমরান: ১৫৯)
নবীজি (স.) ওহি নাজিলের পরও হজরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে পরামর্শ করতেন। (বুখারি) শুধু ঘরোয়া বিষয়েই নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তিনি স্ত্রীদের মতামত নিতেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে নবীজি (স.) স্বীয় স্ত্রী উম্মে সালমা (রা.)-এর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময় যা অতি কার্যকরী বলে বিবেচিত হয়। (বুখারি: ২৭৩১)

আরও পড়ুন: স্ত্রীর সঙ্গে যেভাবে প্রেমময় সম্পর্ক গড়তে বলে ইসলাম

৭. অসুস্থতায় সেবা ও যত্ন

স্ত্রী অসুস্থ হলে স্বামীর কর্তব্য তার সেবা করা। স্ত্রী অসুস্থ থাকায় ওসমান (রা.) বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। নবী কারিম (স.) তাঁকে বলেন, বদর যুদ্ধে যোগদানকারীর সমপরিমাণ সওয়াব ও (গনিমতের) অংশ তুমি পাবে। (সহিহ বুখারি: ৩১৩০)

দাম্পত্য জীবনের মূল লক্ষ্য কোরআনে বর্ণিত- ‘তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আর-রুম: ২১)

অতএব, স্ত্রীর মুখে স্বামীর উত্তম চরিত্রের সাক্ষ্যই হলো এই দুনিয়ায় সফলতার প্রকৃত প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নবীজি (স.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করার তাওফিক দিন। আমিন।