ধর্ম ডেস্ক
২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫৫ পিএম
ইসলামে সৎসঙ্গ বা আল্লাহওয়ালাদের সংসর্গকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। সৎসঙ্গ একজন ব্যক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করে, উত্তম চরিত্র গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতার দিকে নিয়ে যায়। বিপরীতে, অসৎ সঙ্গ মানুষকে মন্দ কাজে উৎসাহিত করে, দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তার জীবনকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মুমিনদের সৎসঙ্গ গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সংসর্গ গ্রহণ করো।’ (সুরা তাওবা: ১১৯) এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ঈমানদারদের জন্য সৎসঙ্গ গ্রহণ করা আল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ।
রাসুলুল্লাহ (স.) সৎ ও অসৎ সঙ্গীর তুলনা করে বলেছেন, ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উপমা হলো আতর বিক্রেতা ও কামারের হাপরের মতো। আতর বিক্রেতার কাছে গেলে তুমি কিছু না কিনলেও সুঘ্রাণ পাবে, আর কামারের হাপর তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে অথবা দুর্গন্ধ ছড়াবে।’ (সহিহ বুখারি: ৫১৩৬) এই উপমা থেকে বোঝা যায়, সৎ সঙ্গের সংস্পর্শে এলে স্বাভাবিকভাবেই কল্যাণ লাভ হয়, আর অসৎ সঙ্গের সংস্পর্শে এলে ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী।
আরও পড়ুন: পরকালে যে বিষয়গুলো নিয়ে মানুষ আফসোস করবে
মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতি অনুসরণ করে। তাই রাসুল (স.) উম্মতকে সতর্ক করে বলেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতি অনুসরণ করে। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ্য করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।’ (আবু দাউদ: ৪৮৩৩) এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করা হচ্ছে, তা ব্যক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়।
উত্তম চরিত্র গঠন: সৎসঙ্গী মানুষকে ভালো কাজ করতে এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করে। এতে একজন ব্যক্তির মধ্যে উত্তম অভ্যাস গড়ে ওঠে।
আত্মিক পরিশুদ্ধি: আল্লাহওয়ালাদের সংস্পর্শে থাকলে আল্লাহর ভয় এবং তার প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। তাদের জীবনযাপন, ইবাদত এবং সদুপদেশ মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে।
জান্নাতের পথ সহজ: রাসুল (স.) বলেছেন, ‘মানুষ যাকে ভালোবাসবে, কেয়ামতের দিন সে তারই সাথি হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৬১৬৮) এর অর্থ হলো, সৎ মানুষদের ভালোবাসলে কেয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে জান্নাতে যাওয়ার সৌভাগ্য হবে।
আরও পড়ুন: জান্নাতিরাও আফসোস করবেন যে কারণে
অসৎ সঙ্গী মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কেয়ামতের দিন তারা আফসোস করে বলবে, ‘হায় দুর্ভোগ! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম!’ (সুরা ফুরকান: ২৭-২৮) এই আয়াতে অসৎসঙ্গের কারণে কেয়ামতের দিনের চরম অনুশোচনা প্রকাশ পেয়েছে।
আল্লাহওয়ালাদের চিনতে হলে তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য জানা জরুরি। তাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়, তাদের অন্তর পাপমুক্ত এবং তারা উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তারা উত্তমভাবে পাওনা পরিশোধ করে, জিহাদে অংশ নেয় এবং তাদের থেকে সবাই মঙ্গলের আশা করে।
পরিশেষে বলা যায়, একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য আল্লাহওয়ালাদের সংসর্গ গ্রহণ করা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুলকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনি দৃঢ়চিত্ত হয়ে তাদের সঙ্গে অবস্থান করুন, যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রতিপালককে আহ্বান করে।’ (সুরা কাহাফ: ২৮) এই নির্দেশনার মধ্যে আমাদের জন্য সৎসঙ্গের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার বার্তা রয়েছে।