ধর্ম ডেস্ক
০৭ জুন ২০২৫, ১১:৩৭ এএম
ঈদুল আজহায় কোরবানির পর চামড়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। কেউ নিজে রেখে দেন, কেউ বিক্রি করেন, আবার কেউ মসজিদ-মাদ্রাসায় দিয়ে দেন। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে এই চামড়ার প্রকৃত হকদার কে এবং কোথায় দেওয়া জায়েজ, তা অনেকেরই অজানা। ইসলামি ফিকহে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
কোরবানির চামড়া বা চামড়ার বিক্রয়মূল্য পাওয়ার হকদার হলো জাকাত ও ফিতরার উপযুক্ত দরিদ্র ব্যক্তিরা। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘সদকা কেবল ফকির, মিসকিন, এর কাজে নিয়োজিত কর্মচারী, যাদের মন জয় করা প্রয়োজন, দাসমুক্তিতে, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য; এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান।’ (সুরা তাওবা: ৬০)
কোরবানির চামড়ার মূল্য বণ্টনের ক্ষেত্রে দরিদ্র তালিবে ইলমকে অগ্রাধিকার দেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ। (দুররুল মুখতার: পৃ. ৩৪৩; হেদায়া: ১/১৮৫ ও রুহুল মাআনি: ৬/৩১৩)
আরও পড়ুন: পশুর চামড়া খাওয়া কি জায়েজ?
সদকা করার নিয়তে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করা জায়েজ। এক্ষেত্রে পুরো অর্থই সদকা করে দিতে হবে। নিজের খরচের নিয়তে বিক্রি করা নাজায়েজ ও গুনাহ। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/৩০১; কাজিখান: ৩/৩৫৪)
না, চামড়া কসাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া নিষিদ্ধ। কসাইয়ের মজুরি আলাদা অর্থে পরিশোধ করতে হবে। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত- ‘রাসুল (স.) আমাকে তাঁর কোরবানির পশু জবাই করতে এবং পশুর গোশত, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি সদকা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর এগুলোর কোনো কিছু কসাইকে দিতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ বুখারি: ১৭১৭; সহিহ মুসলিম: ১৩১৭)
আরও পড়ুন: ভুঁড়ি খাওয়া কি জায়েজ?
হ্যাঁ, কোরবানিদাতা চাইলে চামড়া নিজের কাছে রেখে জায়নামাজ, পাটি বা জুতা তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। চামড়া দিয়ে নিজে উপকৃত হওয়া শরিয়তে বৈধ। তবে এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, চামড়া বিক্রি করলে সেই অর্থ আর নিজের জন্য রাখার সুযোগ নেই- পুরোটাই সদকা করতে হবে।
কোরবানির চামড়া নিছক একটি পণ্য নয়, এর সঙ্গে শরিয়তের সুনির্দিষ্ট বিধান জড়িত। নিজে ব্যবহার করা বৈধ, বিক্রি করা যাবে তবে মূল্য সদকা করতে হবে, আর কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রকৃত হকদার হলো দরিদ্র মানুষ—বিশেষত দরিদ্র তালিবে ইলম। তাই কোরবানির চামড়ার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রতিটি কোরবানিদাতার দায়িত্ব।
সহিহ বুখারি: ১৭১৭; সহিহ মুসলিম: ১৩১৭; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/৩০১; কাজিখান: ৩/৩৫৪; দুররুল মুখতার: ৩৪৩; হেদায়া: ১/১৮৫; রুহুল মাআনি: ৬/৩১৩; সুরা তাওবা: ৬০