ধর্ম ডেস্ক
০৪ মে ২০২৫, ০৪:২১ পিএম
কোরবানি ইসলামের একটি শিয়ার বা মহান নিদর্শন। শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব। ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে কোরবানি দিতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- من وجد سعة ولم يضح، فلا يقربن مصلانا ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ, ইবনে মাজাহ: ৩৫১৬)
এ হাদিসটি যারা কোরবানি পরিত্যাগ করে তাদের জন্য সতর্কবাণী। তাই সামর্থ্য থাকলে কোরবানি করতে হবে।
কোরবানির পরিবর্তে কোরবানির মূল্য সদকা করার ব্যাপারে ইমামদের বক্তব্য হলো- এক্ষেত্রে কোরবানি করাই উত্তম। কেননা কোরবানি একক ইবাদত এবং ইসলামের নিদর্শন।
আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন— فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)
আরও পড়ুন: এ বছর কত টাকা থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে?
তাছাড়া রাসুল (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে কোরবানির দিনগুলোতে (জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ) কোরবানির চেয়ে অধিক পছন্দনের কোনো আমল নেই।’ (তিরমিজি: ১৪৯৩)
সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিদ (রহ) বলেন, একশত দিরহাম দান করা অপেক্ষা আমার নিকট একটি ছাগল কোরবানি করা উত্তম। (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক: ৩৮৮/৪)
উল্লেখিত দলিলের ভিত্তিতে এ কথা প্রমাণিত যে, কোরবানির দিনে কোরবানি করাটাই সর্বোত্তম আমল। সদকা যেকোনো সময় উত্তম আমল হলেও কোরবানির মূল্য সদকা করে কোরবানির চেয়ে বেশি সওয়াব লাভের আশা করা বোকামি।
আরও পড়ুন: কোরবানি না করে আকিকা করা যাবে?
মূলত কোরবানি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রাণ উৎসর্গের বিষয়। আর সদকা হয় অর্থ-সম্পদের বিনিময়ে। তাছাড়া কোরবানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দিনের নামই রাখা হয়েছে ঈদুল আজহা তথা ত্যাগের উৎসব। সদকার জন্য কোনো দিন নির্ধারিত নেই।
রোজার বদলে হজ কিংবা জাকাতের বদলে নামাজ যেমন যথেষ্ট নয়; তেমনি কোরবানির পরিবর্তে সদকাও যথেষ্ট নয়। কোনো ব্যক্তি যদি তার পুরো অর্থ-সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে দেয়, তবু একটি নামাজের ‘ফরজ’ আদায় হয় না। ঠিক তেমনি যত অর্থই ব্যয় করা হোক, ইবরাহিম (আ.)-এর পবিত্র স্মৃতিময় কোরবানির আমল তাতে আদায় হয় না; কোরবানির ওয়াজিবও আদায় হয় না। (তারিখে কোরবানি, পৃষ্ঠা: ১৮)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের সকল বিধান যথাযথভাবে মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।