ধর্ম ডেস্ক
২৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:১৯ পিএম
হজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রুকন ও ফরজ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর উদ্দেশে এ গৃহের হজ করা ফরজ। আর কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৫ সালের ৫ জুন (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল)। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৮৭ হাজার ১০০ জন বাংলাদেশি পবিত্র হজ পালনে ঢাকা থেকে সৌদি আরব যাবেন।
ইসলামের এই বিধান পালনে সফর শুরুর আগে একজন মুসলিমের কিছু কাজ করা উচিত। সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
১. নিয়ত বিশুদ্ধ করা
যেকোনো আমলের জন্য নিয়ত বিশুদ্ধ করা জরুরি। নিয়তের শুদ্ধতা ছাড়া আল্লাহর দরবারে কোনো আমল গ্রহণযোগ্য নয়। হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও মহান ইবাদতের জন্যও নিয়তের বিশুদ্ধতা জরুরি। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নিয়ত ছাড়া কোনো আমল গৃহীত হয় না।’ (সুনানে কুবরা: ৬/৪১)
২. অতীতের গুনাহ থেকে তওবা করা
হজ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে গুনাহমুক্ত করে দেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ইসলাম গ্রহণ পূর্ববর্তী সব অন্যায় মিটিয়ে দেয়। হিজরত পূর্বের গুনাহ মিটিয়ে দেয় এবং হজও আগের সব পাপ মুছে দেয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১২১) এরপরও হজ শুরুর আগে অতীতের গুনাহের জন্য তাওবা-ইস্তেগফার করা উচিত। কেননা তাওবার মাধ্যমে যেকোনো আমল শুরু করলে তা ইখলাসপূর্ণ হয় এবং কবুলের উপযুক্ত হয়। তাছাড়া যেকোনো কাজ সফল হওয়ার জন্য তাওবা নিয়ামকস্বরূপ। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা নুর: ৩১)
আরও পড়ুন: ইহরাম অবস্থায় নারীরা যে ভুলটি বেশি করেন
৩. পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা
কোনো ব্যক্তির নিজের এবং পরিবারের লোকজনের প্রয়োজনীয় ভরণপোষণের অতিরিক্ত মক্কায় গিয়ে হজ করে আসা পরিমাণ সম্পদ থাকলে হজ ফরজ হয়। তাই হজ করতে গেলে নিজের অনুপস্থিতিতে পরিবারের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘মানুষের পাপী হওয়ার জন্য এটা যথেষ্ট যে, সে তাদের (অধিকার) নষ্ট করবে (অর্থাৎ তাদের ভরণ-পোষণে কার্পণ্য করবে) যাদের জীবিকার জন্য সে দায়িত্বশীল।’ (রিয়াজুস সালেহিন: ৩০০)
৪. মা-বাবার দোয়া ও অনুমতি নেওয়া
হজ কবুলের জন্য নিজের মা-বাবা ও মুরব্বিদের কাছে দোয়া নেওয়া এবং তাদের কেউ অসুস্থ থাকলে তাদের অনুমতি নিয়ে হজে যাওয়া উচিত। এমনকি জিহাদে যাওয়ার ক্ষেত্রেও কখনও মা-বাবার খেদমত প্রাধান্য পায়। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবী কারিম (স.)-এর কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করল। তখন তিনি বলেন, তোমার মা-বাবা জীবিত আছেন কি? সে বলল, হ্যাঁ। মহানবী (স.) বলেন, তাহলে (তাদের খিদমতের মাধ্যমে) তাদের মধ্যে জিহাদের চেষ্টা করো। (বুখারি: ৩০০৪)
আরও পড়ুন: হজকে মাবরুর হজে পরিণত করবেন যেভাবে
৫. ঋণ পরিশোধ করা
কেউ ঋণগ্রস্ত থাকলে হজের সফরে বের হওয়ার আগেই সব ঋণ পরিশোধ করুন। ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে হজের সফরে বের হওয়ার আগে পাওনাদারের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া উচিত। পাওনাদারের অনুমতি ছাড়া হজে যাওয়া মাকরুহ। রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, ধনী ব্যক্তির (ঋণ আদায়ে) গড়িমসি করা জুলুম। (বুখারি: ২৪০০) তবে ঋণ পরিশোধ না করে হজ আদায় করলেও ফরজ হজ আদায় হয়ে যাবে।