ধর্ম ডেস্ক
০৭ জুন ২০২৪, ০২:২৬ পিএম
জিলহজ মুসলমানদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। বিশেষ করে এই মাসের প্রথম ১০ দিন বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। এই দশকেই হজ ও কোরবানির মতো মহান দিনগুলো রয়েছে। এই দশ দিন অন্যান্য নেক আমলেরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশকের নেক আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমলই উত্তম নয়।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও এই দশকের আমলের চেয়ে উত্তম নয়? রাসুল (স.) বললেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও এর চেয়ে উত্তম নয়; তবে ওই ব্যক্তি ছাড়া, যে তার সর্বস্ব নিয়ে জিহাদে অংশগ্রহণ করল এবং কিছুই নিয়ে ফিরে এলো না।’ (আবু দাউদ: ২৪৩৮; বুখারি: ৯৬৯)
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, ‘মহান আল্লাহর কাছে জিলহজের ১০ দিনের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই।’ (সহিহ ইবনে হিববান: ২৮৪২)
জিলহজ শুরু হলে বিশেষত তিনটি আমল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং যথসম্ভব চেষ্টা করা উচিত আমলগুলো করার। এখানে সেগুলো তুলে ধরা হলো।
১. চাঁদ দেখে দোয়া করুন
জিলহজ শুরু হোক ঈমান ও নিরাপত্তার দোয়ার মাধ্যমে। দোয়াটি পড়তে হবে চাঁদ দেখে। হাদিসে নতুন চাঁদ দেখার একটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। তা হলো- اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত কর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।’ তালহা বিন উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (স.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন এ দোয়া পড়তেন। (তিরমিজি: ৩৪৫১)
আরও পড়ুন: যে দোয়া পড়লে দুনিয়া-আখেরাতে আল্লাহই যথেষ্ট
২. চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকুন
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানির দিন পশু জবাই হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় ক্ষৌরকর্ম থেকে বিরত থাকা সুন্নত ও মোস্তাহাব। এই আমল যারা কোরবানি করবেন, তারা তো করবেনই, যারা কোরবানি করবেন না তারাও আমলটি করার চেষ্টা করবেন। এতে কোরবানি না করেও কোরবানির সওয়াব লাভ হবে বলে হাদিসের ঘোষণা রয়েছে। (দ্র: সুনানে আবু দাউদ: ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ি: ৪৩৬৫)
এমনকি নারী ও শিশুরাও এই আমলের কারণে বিশেষ সওয়াব লাভ করবেন। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈদের আমল থেকে এটাই প্রমাণিত হয়। ওলিদ বিন মুসলিম বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আজলানকে জিলহজের দশকে চুল কাটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন, আমাকে নাফে (রহ) বলেছেন- আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এক মহিলার নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। মহিলাটি জিলহজের দশকের ভেতর তার সন্তানের চুল কেটে দিচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, যদি ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তবে বড় ভালো হত। (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৫২০)
মুতামির ইবনে সুলাইমান আততাইমি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, ইবনে সিরিন (রহ) জিলহজের দশকে চুল কাটা অপছন্দ করতেন। এমনকি এই দশকে ছোট বাচ্চাদের মাথা মুণ্ডন করাকেও অপছন্দ করতেন। (আল মুহাল্লা, ইবনে হাজম: ৬/২৮)
আরও পড়ুন: অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কারের জন্য কি ওষুধ ব্যবহার জায়েজ?
৩. নফল রোজা ও অন্যান্য ইবাদত বাড়িয়ে দিন
জিলহজ মাসরে প্রথম ১০ দিনের রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল এবং এই দশকের অন্যান্য নেক আমলও অনেক ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশকের নেক আমলের চেয়ে বেশি প্রিয় অন্যকোনো দিনের আমল নেই। এ দিনগুলোর এক দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমতুল্য এবং এক রাতের ইবাদত শবে কদরের ইবাদততুল্য।’ (তিরমিজি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা-১৫৮) হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) কখনো চারটি আমল পরিত্যাগ করেননি। সেগুলো হলো- আশুরার রোজা, জিলহজের ১০ দিনের রোজা, প্রত্যেক মাসে তিন দিনের রোজা ও ফজরের পূর্বের দুই রাকাত নামাজ। (আহমদ: ৬/২৮৭, আবু দাউদ: ২১০৬, নাসায়ি: ২২৩৬)