ধর্ম ডেস্ক
১৭ মে ২০২২, ১২:৩৫ পিএম
কোরবানির পশু কিনে রাখার পর হঠাৎ চুরি হয়ে গেল বা মরে গেল- এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন। কোরবানি কি তাহলে মাফ হয়ে গেল, নাকি আবার পশু কিনতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে কোরবানিদাতার আর্থিক অবস্থার ওপর। ইসলামি ফিকহের কিতাবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
বিধানটি বোঝার আগে জানা দরকার, কার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের মধ্যে যদি কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান ঋণমুক্ত অবস্থায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তার কোরবানি করা ওয়াজিব। (রদ্দুল মুহতার: ৬/৩১২)
কোরবানির নিসাব হলো- স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি, রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন তোলা বা সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ।
এ বিষয়ে ফিকহের কিতাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে-
যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব: কোরবানির পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে তাকে আরেকটি পশু কিনে কোরবানি করতে হবে। কারণ তার ওপর কোরবানির দায়িত্ব আগে থেকেই ছিল; পশু হারিয়ে গেলে সেই দায়িত্ব রহিত হয় না।
যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়: যিনি নিসাবের মালিক নন অর্থাৎ গরিব ব্যক্তি স্বেচ্ছায় পশু কিনেছিলেন, তার পশু চুরি হলে বা মরে গেলে নতুন পশু কেনা তার জন্য ওয়াজিব নয়। তবে সামর্থ্য থাকলে কিনলে সওয়াব পাবেন।
(বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১৬; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩১৯)
আরও পড়ুন: কোরবানির পশু কেনার আগে যাচাই করুন এই ৭টি বিষয়
পশু হারানোর পর নতুন পশু কেনা হলো, এরপর আগের পশুটিও ফিরে পাওয়া গেল। এ ক্ষেত্রে বিধান দুই রকম-
যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব (ধনী): তিনি দুটির যেকোনো একটি কোরবানি করলেই যথেষ্ট। উভয়টি কোরবানি করা তার জন্য আবশ্যক নয়।
যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় (গরিব): তাকে উভয়টিই কোরবানি করতে হবে। কারণ গরিব ব্যক্তি যখনই কোনো পশু কোরবানির নিয়তে কেনেন, সেই পশুটি তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যায়। ফলে দুটি পশু কেনার কারণে দুটিই আদায় করা তার জন্য আবশ্যক। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১৬; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/৩০০)
আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন- ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২) তবে কোরবানি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়। আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন- ‘আল্লাহর কাছে কোরবানির গোশত ও রক্ত পৌঁছে না, পৌঁছে কেবল তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ: ৩৭)
আরও পড়ুন: কোরবানি কী ও কেন, যে ত্যাগের শিক্ষা আজও জীবন্ত
অর্থাৎ কোরবানির প্রাণ হলো তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য। লৌকিকতা বা শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে করা কোরবানি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
পশু হারানো বা মৃত্যু কোনো মুমিনের জন্য অবশ্যই কষ্টের। তবে শরিয়তের বিধান মেনে পদক্ষেপ নেওয়াই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তিনি সাধ্যমতো নতুন পশু সংগ্রহ করে কোরবানি আদায় করবেন- এটাই ইবরাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের সুন্নাহ, যা আল্লাহ তাআলা কেয়ামত পর্যন্ত জারি রেখেছেন।
তথ্যসূত্র: সুরা কাউসার, সুরা হজ, রদ্দুল মুহতার, বাদায়েউস সানায়ে, খুলাসাতুল ফতোয়া