images

ইসলাম

আশুরার দিনে তাওবার গুরুত্ব

ধর্ম ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৩, ০৬:০২ পিএম

মহররমের ১০ তারিখকে আরবিতে আশুরা বলা হয়। মুসা (আ.)-এর যুগের অত্যাচারী রাজা ফেরাউনের ধ্বংসসহ অনেক বড় বড় ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে এই দিনে। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নবুয়তের আগে মক্কার কুরাইশদের কাছেও দিনটির বিশেষ মর্যাদা ছিল। তারা আশুরার দিনে কাবাঘরে নতুন চাদর পরাত এবং রোজা রাখত। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আদর্শে তারা যা করত, তাতে রাসুলুল্লাহ (স.)-এরও সম্মতি ছিল। তিনি কুরাইশদের সঙ্গে হজে অংশগ্রহণ করতেন এবং আশুরার রোজা রাখতেন, কিন্তু অন্যদের তখনও এর নির্দেশ দেননি। (বুখারি: ১৮৯৩)

আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে এক হাদিসে নবীজি (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগিরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ১/৩৬৭; জামে তিরমিজি: ১/১৫৮)

আরও পড়ুন
আশুরার দুই রোজা কবে রাখতে হবে?
আশুরার যে আমলে সারাবছর রিজিক প্রশস্ত থাকে

রোজার পাশাপাশি এইদিনে তাওবার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যদিও তাওবা-ইস্তেগফার যেকোনো সময় করা যায়। তবে কিছু সময় এমন রয়েছে, যখন তাওবার বেশি অনুকূল। বান্দার উচিত সেই প্রত্যাশিত মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগানো। মহররমের এ মাসটি, বিশেষ করে ১০ তারিখ—এমনই এক মোক্ষম সময়। এদিন তাওবা কবুল হওয়া, নিরাপত্তা এবং অদৃশ্য সাহায্য লাভ করার কথা রয়েছে। এক সাহাবি নবীজির কাছে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের পর আপনি কোন মাসে রোজা রাখতে বলেন? নবীজি বললেন, তুমি যদি রমজানের পর রোজা রাখতে চাও তাহলে মহররমে রোজা রাখো। কেননা মহররম হচ্ছে আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন এক দিন আছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা (অতীতে) অনেকের তাওবা কবুল করেছেন। ভবিষ্যতেও অনেকের তাওবা কবুল করবেন। (জামে তিরমিজি: ৭৪১) আশুরার দোয়া, আশুরার আমল, আশুরার দিনে রোজা, আশুরার দিন তাওবা

অতএব, আশুরার দিন যেভাবে আমরা রোজা রাখার চেষ্টা করব, দোয়া-জিকির ও অন্যান্য আমল করব, একইভাবে তাওবার প্রতিও মনোনিবেশ করব, যাতে আমাদের ওপর আল্লাহর রহমত প্রবলভাবে বর্ষিত হয় এবং অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।